সমকালীন প্রতিবেদন : ভেন্ডার কামরায় ওঠাকে কেন্দ্র করে দুই তরুণী নৃত্যশিল্পীকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ ও মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল এক টিকিট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই টিকিট পরীক্ষককে অবশেষে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ জিআরপি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম প্রশান্ত নাথ। তাঁর বাড়ি বিড়া এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে সোনারপুর জিআরপি এলাকার কাছ থেকে প্রশান্ত নাথকে আটক করে বনগাঁ নিয়ে আসা হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই গোবরডাঙার বাসিন্দা ঋত্বিকা সাহা ও অশ্রী সাহা টিকিট কেটে গোবরডাঙা স্টেশন থেকে রানাঘাটের একটি নাচের স্কুলে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলেন। অভিযোগ, অসাবধানতাবশত তাঁরা ট্রেনের ভেন্ডার কামরায় উঠে পড়েন। বনগাঁ স্টেশনে নেমে রানাঘাট লোকাল ধরার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
অভিযোগ, বনগাঁ স্টেশনে নামার পর কর্তব্যরত ওই টিকিট পরীক্ষক দুই তরুণীকে আটক করেন। ভেন্ডার কামরায় যাতায়াতের অভিযোগে তাঁদের কাছে আড়াই হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু সঙ্গে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় আতঙ্কিত হয়ে দুই তরুণী তাঁদের মায়েদের ফোন করেন।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। দুই নৃত্যশিল্পীর দাবি, টিকিট পরীক্ষক তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে ফোনে দুর্ব্যবহার করেন। নাচের স্কুলে নির্ধারিত সময়ে তাঁরা না পৌঁছনোয় শিক্ষিকা ফোন করে কারণ জানতে চাইলে তাঁর সঙ্গেও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা হয় বলে অভিযোগ।
দুই তরুণীর আরও অভিযোগ, তাঁদের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয়েছিল। সেখানেই ওই টিকিট পরীক্ষক তাঁদের উদ্দেশে অত্যন্ত অশালীন মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন দুই তরুণী।
ঘটনার পর অভিভাবক এবং নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বনগাঁ জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। টিকিট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে সেইসময় বনগাঁ জিআরপি থানার সামনে বিক্ষোভেও সামিল হন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। তাঁদের হাতে ছিল অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষকের ছবি। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশান্ত নাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, শুধু ওইদিনের ঘটনাই নয়, অভিযুক্ত টিকিট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অজুহাতে একাধিক রেলযাত্রীর সঙ্গে অশালীন এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। রেলপুলিশের পাশাপাশি অভিযুক্তর বিরুদ্ধে রেল কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কোনও ব্যবস্থা গ্রহন করে কিনা, সেটাই এখন দেখার।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন