সমকালীন প্রতিবেদন : শ্রীলঙ্কার মাটিতে গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ১৬৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে শুভসূচনা করল ভারত। গলের ২২ গজে বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথারের তাণ্ডব এবং দেবদত্ত পাডিক্কালের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে টিম ইন্ডিয়া এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেয়। তবে জয়ের পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের রোমাঞ্চিত করেছে এক অভাবনীয় কাকতালীয় ঘটনা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক দু’মিনিটের মাথায় নামে প্রবল বৃষ্টি, যা একটু আগে এলেই ভারতের নিশ্চিত জয় আটকে যেতে পারত।
৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৫ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৯৯ রান তুলে লড়াইয়ে ছিল শ্রীলঙ্কা। ক্রিজে অনবদ্য ছন্দে ব্যাট করছিলেন সোনাল দিনুশা। ঠিক সেই মুহূর্তে বোলিংয়ে এসেই গলের চিত্রনাট্য একাই বদলে দেন ২৪ বছর বয়সি স্পিনার মানব সুথার। নিজের স্পেলের ৭৬তম ওভারের মাত্র ১০ বলের ব্যবধানে ৩টি উইকেট উপড়ে নেন তিনি। এরপর নিজের পরবর্তী ওভারেই শেষ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।
তবে আসল নাটক জমে ওঠে গলের আকাশে। মানব যখন শ্রীলঙ্কার তাসের ঘর ভেঙে দিচ্ছেন, তখন পুরো মাঠ ঢেকে গিয়েছিল ঘন কালো মেঘে। ভারত জয় নিশ্চিত করার ঠিক ২ মিনিটের মাথায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। যদি সেই বৃষ্টি আর ২ মিনিট আগে নামত, তবে খেলা বন্ধ রাখতে হতো এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকা ভারতের হাত থেকে জয় ফসকে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হতো। বৃষ্টির কারণে মাঠের পরিবর্তে ইনডোরেই শেষ পর্যন্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সারতে হয়।
ভারতের এই জয়ের নেপথ্যে জোড়া নায়কের অবদান অপরিসীম। প্রথম ইনিংসে ৪টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬টি সহ ম্যাচে মোট ১০টি উইকেট শিকার করেন ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা মানব সুথার। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিষেকের পর এটিই তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স (২ টেস্টে ১৭ উইকেট)। বলের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রান যোগ করেন।
অন্যদিকে, ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন দেবদত্ত পাডিক্কাল। গলের মাটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানোর পাশাপাশি দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি মোট ২১১ রান সংগ্রহ করেন, যা দলকে বিশাল রানের পুঁজি গড়তে সাহায্য করে।
শ্রীলঙ্কাকে ২০৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে পাওয়া এই বড় জয়ের ফলে গৌতম গম্ভীরের প্রশিক্ষণাধীন ভারত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড় জোরালো করল। যদিও লর্ডসের টিকিট পাওয়ার এই পথ এখনো বেশ কঠিন ও দীর্ঘ, তবুও গলের জয় শুভমান গিলদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন টিম ইন্ডিয়ার মূল লক্ষ্য।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন