সমকালীন প্রতিবেদন : সাঁতার কেবল পদক জয় বা বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জরুরি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা। অসাবধানতায় জলে ডুবে অকালমৃত্যু রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে এক বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হলো পশ্চিম মেদিনীপুরে। শনিবার বিশ্ব জলে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে 'চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট' (সিনি) এবং 'মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাব'-এর যৌথ উদ্যোগে মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাব প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত মেদিনীপুর কোতোয়ালি মহিলা থানার ইন্সপেক্টর কবিতা দাস।
সাম্প্রতিক এক রাজ্যব্যাপী সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় জলে ডুবে মৃত্যুর হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সাঁতার শেখানো ও জল নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভারত সরকারের নির্দেশিকাতেও সাঁতারকে মৃত্যু প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক ডা. শঙ্কর গুছাইত, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধি, মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের সম্পাদক পল্লব কিশোর চট্টোপাধ্যায়, সভাপতি অতনু ঘোষ, সিনির ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি অফিসার সুজয় রায় ও ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী সাঁতারু আফরিন জাবি।
সিনির পক্ষ থেকে সুজয় রায় জানান, ভারত সরকারের জাতীয় নির্দেশিকা প্রকাশের দু'বছর কেটে গেলেও এবার তা পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়নের সময় এসেছে। নিরাপদ সাঁতার, শিশুদের নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ে বেড়া দেওয়া, উদ্ধার ও সিপিআর প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা– এই পাঁচটি স্তম্ভের ওপর জোর দিলে ২০৩৫ সালের মধ্যে জলে ডুবে মৃত্যুর হার ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। অন্যদিকে, সাঁতারু আফরিন জাবি বলেন, "রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন জলে ডুবে মারা যায়, যার সিংহভাগই শিশু। তাই প্রতিটি বাবা-মায়ের উচিত সন্তানকে ছোট থেকেই সাঁতার শেখানো।"
এদিনের কর্মসূচিতে সচেতনতার পাশাপাশি ফ্রিস্টাইল, ব্যাকস্ট্রোক, ব্রেস্টস্ট্রোক ও বাটারফ্লাই বিভাগে সাঁতার প্রতিযোগিতা, ওয়াটার পোলো এবং ডাইভিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় ৮০ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নেন এবং সফলদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিধায়ক। আয়োজকদের তরফে সুস্মিতা পট্টনায়ক জানান, আন্তর্জাতিক থিম ‘ইউনাইট টু টার্ন দ্য টাইড’-কে সামনে রেখে ১০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং অসমে এই ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে। পরিশেষে, সাঁতারকে প্রতিটি শিশুর নাগালে পৌঁছে দিয়ে জল নিরাপত্তাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন