সমকালীন প্রতিবেদন : দিনচারেক আগেই ক্রিকেটমহলের একটা বড় অংশ তাঁকে একেবারে ‘প্রাক্তন’ করে দিয়েছিল। গুঞ্জন উঠেছিল, বয়স ৩৯ ছুঁইছুঁই হওয়ায় নির্বাচকেরা নাকি তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডসের ওয়ানডে ম্যাচটিই হতে চলেছে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ।
কিন্তু চাপের মুখে নতিস্বীকার করা যাঁর অভিধানে নেই, সেই রোহিত গুরুদয়াল শর্মা রবিবার লর্ডসের ঐতিহাসিক ২২ গজেই সপাটে পুল করে নিন্দুকদের সমস্ত সমালোচনা মাঠের বাইরে ফেললেন। ৩৮৮ রানের পর্বতপ্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খেললেন ১১০ বলে ১৩৮ রানের এক মাস্টারক্লাস ইনিংস। ভারতের ম্যাচ ও সিরিজ হাতছাড়া হলেও, রোহিতের এই ৩৪তম একদিনের আন্তর্জাতিক শতরান স্পষ্ট জানিয়ে দিল– তিনি এখনই থামছেন না।
এদিনের শতরানের ইনিংসের মাধ্যমে শুধু সমালোচকদের মুখই বন্ধ করেননি রোহিত, গড়েছেন একঝাঁক অনন্য নজিরও। প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে ঐতিহাসিক লর্ডসের মাটিতে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। পাশাপাশি, শচীন তেণ্ডুলকরকে টপকে ওয়ানডে ফর্ম্যাটে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার হিসাবে সেঞ্চুরির মালিক হলেন হিটম্যান। এখানেই শেষ নয়, ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি রোহিতের অষ্টম শতরান। এর ফলে নির্দিষ্ট কোনও একটি দেশে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সর্বাধিক ওয়ানডে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডও নিজের নামে করে নিলেন ভারত অধিনায়ক।
প্রথম একদিনের ম্যাচে রোহিত ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই তাঁর দলে থাকা এবং ওয়ানডে কেরিয়ার নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছিল। লর্ডসের ম্যাচের আগে পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, বিসিসিআই-এর শীর্ষ কর্তাদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। তবে লর্ডস যুদ্ধের পর রোহিতের সতীর্থ ওপেনার শুভমান গিল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “রোহিত ভাইয়ের অবসর নিয়ে সংবাদমাধ্যমই জল্পনা ছড়িয়েছে। দলের অন্দরে এই নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনও আলোচনা বা বিতর্ক নেই।”
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে বিদায় নেওয়ার পর এবং পরবর্তীতে টেস্ট ক্রিকেটকেও আলবিদা জানানোর পর রোহিতের পাখির চোখ এখন শুধুই একদিনের ক্রিকেট। মূলত ২০২৩ সালে আমদাবাদ ফাইনালে হাতের মুঠো থেকে ট্রফি খসে পড়ার যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা সুদে-আসলে পুষিয়ে নিতে চান তিনি।
২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ই এখন তাঁর একমাত্র অসমাপ্ত স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন রোহিত, আন্তর্জাতিক কেরিয়ার দীর্ঘায়িত করতে কমিয়েছেন প্রায় ১০ কেজি ওজন। মাঠে ফিরে তাঁর সেই চেনা পুল শট এবং নান্দনিক ছক্কা বুঝিয়ে দিয়েছে, ছন্দে থাকলে তিনি কতটা বিপজ্জনক।
ম্যাচ শেষে অবসরের জল্পনা উড়িয়ে স্বভাবসিদ্ধ রসাত্মক ও নির্ভীক মেজাজে রোহিত বলেন, “২০০৭ সালে অভিষেকের দিন থেকেই আমাকে নিয়ে বাইরে বিতর্ক ও চর্চা চলছে। যতদিন খেলব, এটা থাকবেই। এ সব আলোচনা থাকা ভালো, চারপাশে কোনও শব্দ না থাকলে তো খেলায় মজাই নেই! আমার কাজ মাঠের ভেতর ব্যাট হাতে পারফর্ম করা, আর ওদের কাজ মাঠের বাইরে কথা বলা।” হিটম্যানের এই জবরদস্ত জবাবের পর এ কথা বলাই বাহুল্য যে, ভারতীয় ওয়ানডে দলে তাঁর জায়গা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত সন্দেহের কোনও অবকাশই নেই।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন