সমকালীন প্রতিবেদন : পেট্রোলের সঙ্গে জল মেশানোর ভুয়ো অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অনভিপ্রেত উত্তেজনার অবসান ঘটল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তেলের মানের বিষয়ে ‘ক্লিন চিট’ পাওয়ার পর, দীর্ঘ ১২ দিন ধরে বন্ধ থাকা বনগাঁর মতিগঞ্জ এলাকার ‘শ্যামা অটোমোবাইল’ পেট্রোল পাম্পটি পুনারায় চালু করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ১২ তারিখে। ওই দিন হঠাৎই কয়েকজন যুবক বোতলে করে পেট্রোল নিয়ে এসে শ্যামা অটোমোবাইল পাম্পে চড়াও হয় এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের দাবি ছিল, ওই পাম্প থেকে কেনা পেট্রোলে জল মেশানো রয়েছে এবং তা গাড়িতে ভরার পরেই ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাম্প চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনগাঁ থানার পুলিশ। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং তদন্তের স্বার্থে পাম্পের এক কর্মচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। একই সাথে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কোম্পানির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পাম্পের পেট্রোলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
দিনের বেলার উত্তেজনার পর, ঘটনার দিন গভীর রাতে বেশ কিছু দুষ্কৃতী ও উত্তেজিত জনতা ওই পেট্রোল পাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাম্প কর্তৃপক্ষের। এই ঘটনায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে পাম্প মালিক পক্ষ। এরপরই নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় পাম্প কর্তৃপক্ষ।
অবশেষে ঘটনার প্রায় ১২ দিন পর ইন্ডিয়ান অয়েলের অফিসিয়াল ল্যাবরেটরি রিপোর্ট সামনে আসে। সেই রিপোর্টে পরিষ্কার জানানো হয় যে, ওই পাম্পের পেট্রোলে কোনো প্রকার জল বা অন্য কোনো পদার্থের ভেজাল পাওয়া যায়নি। তেলের গুণমান সম্পূর্ণ নিখাদ ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক ছিল।
পরীক্ষার এই রিপোর্ট সামনে আসার পরেই পেট্রোল পাম্পটিতে পুনরায় জ্বালানি বিক্রি শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়। ভূয়ো অভিযোগ ও ভিত্তিহীন গুজবের জেরে পাম্প ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে পাম্প কর্তৃপক্ষ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন