সমকালীন প্রতিবেদন : বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে সিনিয়র জাতীয় দলের দরজা অনেক দিন ধরেই কড়া নাড়ছিল। অবশেষে খুলে গেল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাঞ্চেস্টারে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের সিনিয়র দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামল বিহারের সমস্তিপুরের ১৫ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। আর মাঠে নামার সাথে সাথেই ভারতীয় ক্রিকেটে তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস, ভেঙে গেল কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকরের দীর্ঘ ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ড।
১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যখন শচীন তেন্ডুলকরের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২০৫ দিন। অন্যদিকে, শনিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বৈভবের যখন অভিষেক হলো, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিন। এর ফলে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার নজির গড়ল সে। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এর আগে ভারতের হয়ে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকের রেকর্ডটি ছিল ওয়াশিংটন সুন্দরের (১৮ বছর ৮০ দিন)। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে অবশ্য সর্বকনিষ্ঠ অভিষেকের রেকর্ডটি এখনও পাকিস্তানের হাসান রাজার দখলে, যিনি ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৪ বছর ২২৭ দিন বয়সে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। হাসান রাজার পরেই এখন স্থান করে নিল বৈভব।
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর মিলিয়ে গত তিনটি ম্যাচে এই বিস্ময় কিশোরকে দলের বাইরে রেখেছিল নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের ভারত। টপ অর্ডারের ক্রমাগত ব্যর্থতা এবং সঞ্জু স্যামসনের অফ-ফর্মের কারণে প্রাক্তনরা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছিলেন। অবশেষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পান বৈভব। ম্যাচের আগেই অবশ্য সমাজমাধ্যমে ভারতীয় জার্সিতে ছবি দিয়ে 'নতুন অধ্যায়' লিখে অভিষেকের ইঙ্গিত দিয়েছিল এই তরুণ তারকা।
টসের পর ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার বৈভবের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "গত কয়েক মাসে বৈভব যে অসাধারণ ব্যাটিং করেছে, তাতে এই দলে সুযোগ পাওয়ার সব যোগ্যতা ওর রয়েছে। ও একেবারেই চাপ নেয় না। নেটে যেভাবে ও বোলারদের উড়িয়ে দেয়, তাতেই ওর প্রতিভা স্পষ্ট। ওর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।" ম্যাচ শুরুর আগে তিলক বর্মা বৈভবের হাতে জাতীয় দলের ক্যাপ তুলে দেন। টুপিটি মাপের চেয়ে কিছুটা বড় হওয়ায় তা পরতে সামান্য সমস্যা হলেও সতীর্থ অর্শদীপ সিংহ, ঈশান কিশন ও শিবম দুবেরা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। এই আবেগঘন মুহূর্তে তরুণ ক্রিকেটারকে চোখ মুছতেও দেখা যায়।
চলতি বছরের আইপিএলে ১৬ ইনিংসে অবিশ্বাস্য ৭৭৬ রান করে টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছিল বৈভব। একই সাথে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’, ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’, ‘সুপার স্ট্রাইকার’, ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ এবং ‘মোস্ট সিক্সেস’– এই পাঁচটি ব্যক্তিগত পুরস্কার নিজের ঝুলিতে পুরেছিল সে। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধেও তার ব্যাট কথা বলেছিল।
নিজের অভিষেক ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে নেমেই ইংল্যান্ডের তারকা পেসার জফ্রা আর্চারকে স্কুপ করে পিছনের দিকে দুর্দান্ত একটি ছক্কা মেরে নিজের আগমনী বার্তা দেয় বৈভব। যদিও ইনিংসটি খুব দীর্ঘ করতে পারেনি সে; ১০ বলে ১৪ রান করে ব্রিটিশ স্পিনার উইল জ্যাকসের বলে স্টাম্পড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরে। তবে বড় রান না পেলেও, তার নির্ভীক ব্যাটিং শৈলী ও ঐতিহাসিক অভিষেক ভারতীয় ক্রিকেটের এক নতুন যুগের সূচনা করল বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন