সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ শহরের অন্যতম পুজো উদ্যোক্তা ঐক্য সম্মিলনী ক্লাব এবারে ৬০ বছরে পা দিল। আর এবছর তাদের পুজোর থিম অযোধ্যার রামমন্দিরের আদলে পুজো মন্ডপ। রবিবার সেই উপলক্ষ্যে খুঁটি পুজোর আয়োজন করা হয়। ক্লাবের প্রধান কর্তা তথা হাবড়ার বিধায়ক দেবদাস মন্ডল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, তিন বিধায়ক সোমা ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর এবং স্বপন মজুমদার। ছিলেন পেট্রাপোল স্থল বন্দরের ম্যানেজার কমলেশ সাহানী সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবদাস মন্ডল বলেন, '২০১৮ সালে বনগাঁর তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা এই ক্লাব এবং পুজোর অধিকার জোর করে কেড়ে নিয়েছিল। একটা সময় ছিল, যখন ক্লাবের অনেক সদস্য এমনকি ব্যবসায়ীরা ওই নেতার ভয়ে মতিগঞ্জ এলাকাকে এড়িয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হতেন। কিন্তু সময় বদলেছে। আর সেই নেতা এখন পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু লাভ হবে না। জেলে তাকে ঢুকতেই হবে। পুজোর মধ্যেই হয়তো তাকে জেলের মধ্যে থেকে ঐক্য সম্মিলনীর পুজোমন্ডপ দেখতে হবে।'
শান্তনু ঠাকুর বলেন, 'দেবদাস দার আমন্ত্রণে প্রতি বছর পুজোর সময় বনগাঁয় আসি। ঐক্য সম্মিলনীর পুজো বরাবরই ভালো লাগে। বাঙালীর সর্বশ্রেষ্ট এই উৎসবের সময় দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা মানুষেরা নিজেদের এলাকায় হাজির থেকে পুজোটা উপভোগ করতে ভালোবাসেন। এবছর রাজ্যে ক্ষমতার বদল ঘটেছে। আর তাই আশা করা যায়, রাজ্যের সর্বত্রই মানুষ অন্যরকমভাবে অনেক বেশি আনন্দের সঙ্গে পুজোর দিনগুলি কাটাবেন।'
পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে ছোট আকারে ঐক্য সম্মিলনী ক্লাবের পুজোর আয়োজন হলেও এবার তাদের ৬০তম বর্ষ। তারসঙ্গে রাজ্যের পালাবদল। এইরকম একটি পরিস্থিতিতে এবারে এই পুজো কমিটি অনেকটাই বড় আকারে পুজোর আয়োজন করছে। এদিন খুঁটিপুজোর আয়োজনের মাধ্যমে তারই ইঙ্গিত মিললো।
ক্লাব সম্পাদক রাজীব রায় জানান, অযোধ্যার রামন্দিরের অনুকরণে এবারের পুজোমন্ডপ তৈরি করবে বনগাঁ মাতৃ ডেকরেটরস। পুজোমন্ডপের উচ্চতা হবে প্রায় ১১০ ফুট। ৮০ ফুটের একটি আকর্ষনীয় গেট তৈরি করা হবে। এছাড়াও চন্দননগরের আলোকসজ্জায় সেজে উঠবে গোটা এলাকা। পুজোমন্ডপের ভেতরেও আলোর নানা খেলা থাকবে। এদিন মন্ডপের একটি থার্মোকলের রেপ্লিকাও সাধারণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে আনা হয়।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন