সমকালীন প্রতিবেদন : ২০১০ সালের আগে চাকরিতে যোগদানকারী শিক্ষকদের জন্য হঠাৎই টেট পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার শীর্ষ আদালতের এক নির্দেশকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে শিক্ষক মহলে। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে হাজার হাজার প্রবীণ শিক্ষকের। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ‘অকারণ আতঙ্ক’ থেকে মুক্তি দিতে এবং আইনি সুরক্ষার দাবিতে এবার ময়দানে নামল ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ’।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০১০ সালের ২৩শে আগস্ট দেশজুড়ে টেট পরীক্ষার নিয়ম লাগু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এরপর থেকে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিতে গেলে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০১০ সালের আগে যাঁরা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়েছেন, তাঁদেরও নতুন করে টেট পরীক্ষা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষায় পাস করতে না পারলে চলেও যেতে পারে তাঁদের চাকরি।
এই নির্দেশিকার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনের নেতৃত্ব। তাঁদের মতে, ভারতের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী কোনও নিয়ম বা আইনের ‘রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্ট’ বা ভূতুড়ে প্রভাব (অতীতের ঘটনার ওপর নতুন আইনের প্রয়োগ) হতে পারে না। যে সময়ে শিক্ষকেরা চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তখন এই নিয়ম ছিল না। তাই আজ এত বছর চাকরি করার পর তাঁদের ওপর এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এই সংকট নিরসনে দেশের আইনসভার হস্তক্ষেপ দাবি করেছে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। লোকসভা ও রাজ্যসভার সমস্ত সাংসদদের কাছে এই বিষয়ে স্মারকলিপি পাঠানো শুরু করেছেন তাঁরা। সংগঠনের মূল দাবি, আসন্ন বাদল অধিবেশনেই কেন্দ্রীয় সরকার যেন একটি বিশেষ অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ জারি করে শিক্ষকদের এই অনিশ্চয়তার হাত থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়।
নিজেদের এই দাবির সমর্থনে আজ বনগাঁ লোকসভার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের পদাধিকারীরা। স্মারকলিপি প্রদানের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি কৃষ্ণগোপাল মন্ডল, প্রাক্তন রাজ্য সহ-সভাপতি অনিমেষ মন্ডল এবং সংগঠনের বনগাঁ মহকুমা সভাপতি চন্দন ঘোষ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁদের এই দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন