সমকালীন প্রতিবেদন : ফের যশোর রোডের ধারের শুকনো ডাল ভেঙে মাথায় পড়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। আর এই ঘটনার পর নতুন করে জাতীয় সড়কের ধারের প্রাচীন গাছ বা গাছের শুকনো ডাল কেটে ফেলার দাবি জোরালো হল। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী কথা দিলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে গাছের ডাল কেটে ফেলার কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে বনগাঁর সিকদারপল্লী এলাকার বাসিন্দা, বছর ২৫ বয়সের যুবকের মাথার উপর একটি শুকনো ডাল ভেঙে পড়ায় মৃত্যু হয় বাপন বিশ্বাস নামে ওই যুবকের। সোনার গয়নার বাক্স তৈরির কাজে যুক্ত ওই যুবককে কাজের সূত্রে বনগাঁর বাইরে যেতে হয়। রবিবার ছুটি ছিল। আর তাই দুপুরের খাওয়া সেরে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন।
কিন্তু তিনি যে আর জীবিত অবস্থায় বাড়িতে ফিরবেন না, তা কল্পনাও করতে পারেন নি পরিবারের লোকেরা। যশোর রোড ধরে যাওয়ার সময় আচমকাই একটি শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে ওই যুবকের মাথার উপর। আর তাতে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয় নি। প্রচন্ড আঘাতে শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর তাঁর বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নার রোল পড়ে যায়। পরিবার এবং প্রতিবেশীরা এই ঘটনার জন্য প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেন। তাঁদের অভিযোগ, এর আগে একাধিক ঘটনায় গাছের ডাল ভেঙে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বহু আবেদনের পরেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। নানান বাহানায় এখনও পর্যন্ত মৃত গাছ বা গাছের বিপজ্জনক ডাল কাটার ব্যবস্থা করে উঠতে পারে নি প্রশাসন।
বনগাঁর যুবকের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার সকালে যুবকের বাড়িতে যান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। মৃত যুবকের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিবার চাইলে তিনি পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি দপ্তরে অস্থায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন বলেও জানান। পাশাপাশি, ওই বাড়িতে বসেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসক সহ রাজ্যের বন দপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে যেভাবেই হোক অতি দ্রুততার সঙ্গে বিপজ্জনক গাছ বা গাছের ডাল কাটার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দুএকদিনের মধ্যে টেন্ডার করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে গাছ কাটার কাজ শুরু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও কোনও আধিকারিকের ব্যর্থতায় গাছ কাটার কাজ শুরু না হলে সেই আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে এফআইআর করা হবে বলেও তিনি জানান।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন