সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৭ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্বে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে নানা কৌশলগত রূপরেখা ও প্রস্তুতি। প্রতিটি দলই নিজেদের মতো করে সেরা কম্বিনেশন খুঁজে নিতে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ক্রিকেট দল কি এক অভাবনীয় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিতে চলেছে? সাম্প্রতিক এক আলোচনায় ভারতের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার এমন এক বিস্ফোরক ওপেনিং জুটির প্রস্তাব দিয়েছেন, যা বিশ্ব ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
ফারুখ ইঞ্জিনিয়ারের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবে পা রাখা ১৫ বছরের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী এবং ভারতীয় ক্রিকেটের অভিজ্ঞতম সেনাপতি রোহিত শর্মার নতুন জুটিই ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বৈভবের কেরিয়ারের বয়স এখনও এক মাসও পেরোয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে টি-২০ ফরম্যাটে তাঁর প্রদেয় পারফরম্যান্স টিম ম্যানেজমেন্টকে ওডিআই ক্রিকেটে তাঁর নাম নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে।
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে টি-২০ সিরিজ জয়ে বৈভব ছিলেন মূল কারিগর। তিন ইনিংসে ১৯৬.১০ চমৎকার স্ট্রাইক রেটে ১৫১ রান করে সিরিজ সেরার খেতাব জয় করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল ১৯ বলে একটি দ্রুততম অর্ধশতরান এবং ৪৯ বলে ম্যাচ জেতানো ৮১ রানের চোখধাঁধানো ইনিংস। এ পর্যন্ত ৬টি আন্তর্জাতিক ইনিংসে ১৮৯.২১ স্ট্রাইক রেটে ১৯৩ রান করা এই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার নিজের আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছেন।
ফারুখ ইঞ্জিনিয়ারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাঁ-হাতি ও ডান-হাতি প্রারম্ভিক জুটি সর্বদাই প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। রোহিত শর্মা যদি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলেন, তবে বৈভবকে তাঁর সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামানোই হবে সবচেয়ে ‘আদর্শ’ সিদ্ধান্ত। বৈভবের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলো পাওয়ারপ্লে-র সময় ইনফিল্ড পার করে দ্রুত বাউন্ডারি খুঁজে নেওয়া।
তাঁর মতো ধ্বংসাত্মক ব্যাটার শুরুতে ঝড় তুললে প্রতিপক্ষ ব্যাকফুটে চলে যায়, যা মিডল অর্ডারের বাকি ব্যাটারদের গুছিয়ে খেলে বিশাল স্কোর গড়ার পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ তৈরি করে দেয়। এই নতুন কৌশলের ফলে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারেও আসতে পারে এক আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে ওয়ানডেতে রোহিতের সঙ্গে ওপেন করছেন অধিনায়ক শুভমান গিল।
তবে ইঞ্জিনিয়ারের যুক্তি, গিল অত্যন্ত উঁচু মানের এবং প্রযুক্তিগতভাবে পারদর্শী ব্যাটার– এই মুহূর্তে ভারতের সেরা ব্যাটারদের অন্যতম। তাঁকে চার নম্বরে ব্যাট করতে পাঠালে দলের মিডল অর্ডার অভাবনীয় স্থায়িত্ব ও শক্তি পাবে। ফলে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ দাঁড়াবে এমন: বৈভব ও রোহিতের ওপেনিং জুটির পর তিন নম্বরে বিরাট কোহলি এবং চার নম্বরে শুভমান গিল। এতে ওপরের সারি থেকে শুরু করে পাঁচ-ছয় নম্বর পর্যন্ত দলের ব্যাটিংয়ে অসামান্য ভারসাম্য বজায় থাকবে।
টি-২০ ও ওডিআই ফরম্যাটের ফারাক নিয়ে ক্রিকেট পণ্ডিতদের সতর্কবার্তাকে উড়িয়ে দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মনে করেন, বৈভব রান করছে এবং অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। বৈভবের খেলার ধরনকে কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত কোচিং দিয়ে এই সহজাত প্রতিভাকে বাঁধা উচিত নয়। বৈভব দু-একটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেও দলকে তার থেকে বহুগুণ বেশি ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে। এই অদম্য তরুণ শক্তি ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনই হতে পারে ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে ভারতের ট্রফি জয়ের আসল চালিকাশক্তি।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন