Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মানব পাচার ও ভুয়ো নথি চক্রের খোঁজে বাগদায় ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

 

Marathon-search-operation-of-ED

সমকালীন প্রতিবেদন : সীমান্ত সংলগ্ন বাগদার গাঙ্গুলিয়া গ্রামে সাতসকালে নাটকীয় মোড়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে হানা দিলেন এলাকার বাসিন্দা বিক্রম রায়ের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে শুরু করে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই তল্লাশি অভিযান। প্রত্যন্ত সীমান্ত গ্রামে আচমকা এভাবে ইডি হানার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকা জুড়ে।

তদন্তকারী সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিক্রম রায়ের অতীত বেশ বিতর্কিত। ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশের লখনউ ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিল বিক্রম। পরবর্তীতে, প্রায় বছরখানেক আগে একটি বিশেষ মামলায় এনআইএ তাকে গ্রেপ্তার করে ভিন রাজ্যে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে সে এলাকায় ফিরে আসে। জামিনে থাকার এই সময়কালে সে মূলত বনগাঁ মহকুমা আদালতে মুহুরীর কাজ করত এবং পাশাপাশি কিছু লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। তবে তার ওপর গোয়েন্দাদের নজরদারি যে পুরোপুরি এড়ানো যায়নি, তা আজকের ইডি হানাতেই স্পষ্ট।

অভিযানের পেছনে উঠে আসছে এক বড়সড় আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসূত্র। প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা বাংলাদেশিদের জাল পরিচয়পত্র ও অন্যান্য ভুয়ো সরকারি নথিপত্র তৈরি করে দেওয়ার একটি বড় চক্রের সঙ্গে বিক্রম জড়িত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সঙ্গেও তার সরাসরি আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।

এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে এবং এর মাধ্যমে কত টাকার অবৈধ লেনদেন বা আর্থিক তছরুপ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এদিন ইডির দুজন আধিকারিক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে বিক্রমের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালান। ঘর তল্লাশির পাশাপাশি তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তল্লাশি অভিযানের পর বিক্রমকে নিয়ে ইডি কোনো বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকার মানুষের।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন