Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

পদ্মশিবিরে যোগ দিলেন সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশ

Joining-the-Lotus-camp

সমকালীন প্রতিবেদন : এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর ক্ষমতার পালাবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন। জোড়াফুল শিবিরের সংসদীয় রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন ঘাসফুলের শীর্ষস্তরের তিন নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বৃহস্পতিবার বিকেলে সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ কর্মসূচিতে তাঁদের গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে দলে স্বাগত জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই তিন হেভিওয়েট নেতাই আগেই নিজেদের রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। এদিন পাকাপাকিভাবে দেশের মূল স্রোতের রাজনীতিতে শামিল হলেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই তিন শীর্ষ নেতার পদ্মবরণ শাসকদলের সংসদীয় রাজনীতির ভিতকে বেশ কিছুটা নাড়িয়ে দিল।

এদিন যোগদান পর্বে শমীক ভট্টাচার্য জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘ ৫০ বছরের অনুন্নয়নের খরা কাটিয়ে এবার প্রকৃত উন্নয়ন চান। রাজ্যের ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ভরসা ফিরিয়ে এনেছেন। সেই আবহে বাংলার সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শিতার ওপর আস্থা রেখেই এই তিন বিদগ্ধ নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

তবে দলবদলুদের নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "যাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য চার ঘণ্টার তৃণমূলের দরজা চিরকালই বন্ধ থাকবে। কিন্তু এই তিন নেতার যোগদান কোনও নীতিবিচ্যুতি নয়, বরং এক বিশেষ ‘ব্যতিক্রম’। তাঁরা প্রত্যেকেই গুণীজন।" সংবাদমাধ্যমের কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "প্রত্যেক সাধুরই একটা অতীত থাকে। আশা করব, এখন থেকে এদের নামের আগে 'দলত্যাগী' বা 'তৃণমূলী' তকমা ব্যবহার করা হবে না। এই মুহূর্তে তাঁদের একমাত্র পরিচয়– তাঁরা বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী।"

অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে খালি হওয়া রাজ্যসভার তিনটি আসনে এই তিন নেতাকেই বিজেপি পুনরায় মনোনয়ন দেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন শমীকবাবু। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে জল্পনা না থাকলে সংবাদমাধ্যম চলবে কী করে? জল্পনাটা একটু চলতে দিন।”

বিজেপিতে যোগ দিয়েই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, “কংগ্রেস বা তৃণমূলের মেনিফেস্টো আর বাস্তবের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। মোদীজির যে দূরদৃষ্টি রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনও নেতার নেই। ছোটবেলা থেকে ‘দিদি’কে সুতির শাড়িতে সাদামাটা জীবনযাপন করতে দেখেছি, কিন্তু বাংলায় এসে যে চূড়ান্ত স্তরের দুর্নীতি দেখলাম, তা অবিশ্বাস্য। নিচু তলা পর্যন্ত এই সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছে, যা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।”

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত পাঁচ দশক ধরে রাজ্যের মানুষ শুধু ‘দলের সরকার’ দেখেছে। প্রথমে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূলের একচেটিয়া শাসন। এবার রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথ পরিহার করে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রকৃত উন্নয়ন দেখতে চান। গঙ্গা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির যে আদর্শের সরকার গঠিত হয়েছে, সেখানে এই তিন হেভিওয়েট নেতার অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলেই আশাবাদী গেরুয়া শিবির।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন