Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

‌আইপিএলে এবার সিঙ্গাপুরের নজর: বিশ্বমঞ্চে ধনী এই ক্রিকেট লিগে বিনিয়োগে আগ্রহী ‘টেমাসেক’

Investment-in-IPL

সমকালীন প্রতিবেদন : বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ধনী ও আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। এর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা ও অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই টুর্নামেন্ট। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আইপিএলে পা রাখতে চলেছে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগকারী সংস্থা ‘টেমাসেক’। ভারতের অর্থনৈতিক বাজারের বিরাট সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম কোটিপতি এই ক্রিকেট লিগে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেমাসেকের ভারতীয় শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশেষ শ্রীবাস্তব সরাসরি আইপিএল নিয়ে নিজেদের এই আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ব ক্রীড়াজগতে আইপিএল এক অত্যন্ত অনন্য ও প্রভাবশালী প্রতিযোগিতা, তাই এই টুর্নামেন্টের অংশ হতে তারা বেশ আগ্রহী। ভবিষ্যতে সঠিক সুযোগ ও উপযুক্ত প্রস্তাব পেলে টেমাসেক অবশ্যই এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বিনিয়োগের পথে হাঁটবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থেই আপাতত তারা কোন নির্দিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে আলোচনা চালাচ্ছেন, তা খোলসা করতে চাননি।

বাণিজ্যিক মহলের মতে, সম্প্রতি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অবিশ্বাস্য দাম বৃদ্ধিই বিদেশি মূলধনকে এত দ্রুত আকৃষ্ট করছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (১৬,৮৯০ কোটি টাকা) এবং রাজস্থান রয়্যালস (১৫,৩০০ কোটি টাকা) রেকর্ড মূল্যে বিক্রি হয়েছে, যার সম্মিলিত বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। 

পাশাপাশি, মার্কিন বিনিয়োগ সংস্থা 'হুলিহান লোকি'-র সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আইপিএলের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রতি ম্যাচের সম্প্রচার মূল্যের নিরিখে আমেরিকার এনএফএল -এর পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইপিএল। ইতিপূর্বে মার্কিন ধনকুবের ডেভিড ব্লিজারের মতো নামী বিনিয়োগকারীরাও এই লিগে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তবে মুদ্রার অন্য পিঠে আগামী দিনের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রি নিয়ে কিছুটা চিন্তার ভাঁজও দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ‘জিওস্টার’ প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব হাতে রেখেছে, যার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে। কিন্তু আগামী মরশুমগুলোতে মিডিয়া স্বত্ব থেকে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ‘ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইজরি’। এর মূল কারণ, অ্যামাজন বা নেটফ্লিক্সের মতো বিশ্বসেরা ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো এখনও ভারতীয় ক্রিকেটের সম্প্রচার স্বত্ব কেনার দৌড়ে সেভাবে নামেনি, যার ফলে দরপত্রের প্রতিযোগিতা কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন এক পরিস্থিতিতে টেমাসেকের মতো বিশ্বস্ত সংস্থার আগমনের গুঞ্জন আইপিএলের বাজারকে নতুন করে চাঙা করছে। গত এক দশকে ভারতে টেমাসেকের বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। হলদিরামস বা মণিপাল হসপিটালসের মতো প্রতিষ্ঠানে তাদের সফল বিনিয়োগ ইতিমধ্যেই রয়েছে। শ্রীবাস্তব স্পষ্ট করেছেন যে, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি ভারতে বিনোদন ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও তারা নিজেদের প্রসার ঘটাতে চান। এখন দেখার বিষয়, ২০২৭ পরবর্তী সময়ে আইপিএলের নতুন ডিজিটাল ও ক্রিকেট মানচিত্রে সিঙ্গাপুরের এই ধনকুবের সংস্থা কীভাবে নিজেদের জায়গা করে নেয়।‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন