Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

নিম্নচাপ দুর্বল হলেও সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত: দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়ার পূর্বাভাস

 

Heavy-rainfall-in-South-Bengal

সমকালীন প্রতিবেদন : দক্ষিণবঙ্গের ওপর থাকা নিম্নচাপটি কিছুটা দুর্বল হয়ে ঝাড়খণ্ড ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ভাগে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়েছে। তবে এই ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত এখনও যথেষ্ট সক্রিয়। এর পাশাপাশি, একটি মৌসুমি অক্ষরেখা পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ড হয়ে রাঁচি ও দীঘার ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে আরও একটি অক্ষরেখা। এই জোড়া অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের জোরালো প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে হু হু করে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। ফলে শ্রাবণের শুরুতেই বঙ্গে আবহাওয়া পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই, বরং চলতি সপ্তাহে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করতে পারে। রবি ও সোমবার উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে প্রবল দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে রবিবার ২০০ মিলিমিটার বা ২০ সেন্টিমিটারের বেশি অতিপ্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই চার জেলায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে চরম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কোচবিহারে ভারী থেকে অতিভারী (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। এছাড়া মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সোমবারও দার্জিলিং-সহ উত্তরের জেলাগুলিতে অতিভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা বজায় থাকবে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও বুধবার জলপাইগুড়ির কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে। এই প্রবল বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিচু এলাকায় প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে। চাষবাস ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

চলতি সপ্তাহের রবি ও সোমবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টি কিছুটা কম হলেও, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই মর্মে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা বেশি থাকবে। বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে।

আগামী ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) তৃণমূলের দুই শিবির এবং এনসিপিআই-এর শহিদ দিবস সমাবেশের দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ব্যাপকতা ও পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উপকূল ও তৎসংলগ্ন জেলাগুলিতে (যেমন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম) ভারী বৃষ্টি চলবে। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দিনগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতায় সোমবার পর্যন্ত আবহাওয়ার বিশেষ কোনো সতর্কতা বা বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস নেই। 

তবে মঙ্গলবার থেকে মহানগরেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে শুরু করবে এবং এই দফায় বৃষ্টির আমেজ আগামী শনিবার পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছে আবহাওয়া অফিস। সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের জন্য এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে সমুদ্রের রূপ যেকোনো সময় বদলাতে পারে, তাই তাঁদের প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর কড়া নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন