সমকালীন প্রতিবেদন : উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে সিআইডি ও স্থানীয় থানার যৌথ অভিযানে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও নগদ টাকা। রবিবার সকালে ব্যস্ত সময়ে জনবহুল রাস্তায় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালায় পুলিশ। এই ঘটনায় পূজা বিশ্বাস নামে হাবড়ার এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে একটি বড়সড় আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্র জড়িত রয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার সকালে সিআইডি এবং অশোকনগর থানার পুলিশ যৌথভাবে নৈহাটি-অশোকনগর রোডের ৮ নম্বর মোড় এলাকায় ওত পেতে ছিল। নির্দিষ্ট তথ্য মিলিয়ে একটি চার চাকার ‘ম্যাজিক গাড়ি’কে আটক করেন তদন্তকারীরা। পুলিশি তৎপরতা দেখে সন্দেহজনক এক মহিলার পিছু ধাওয়া করে ৮ নম্বর এলাকাতেই তাকে বাগে আনে পুলিশ। ধৃত মহিলার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করতেই চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের।
ধৃত মহিলার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে ৬টি অত্যাধুনিক পিস্তল (যার মধ্যে ৪টি ৭ এমএম পিস্তল এবং ২টি ৯ এমএম পিস্তল)। এছাড়া ১২টি ম্যাগাজিন এবং প্রায় ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। এর সঙ্গে নগদ ১২ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি ট্রেনের টিকিট উদ্ধার হয়েছে।
ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্র (আধার কার্ড) থেকে জানা গেছে, তার নাম পূজা বিশ্বাস। সে হাবড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এই বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের পর নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ও সিআইডি সাময়িকভাবে গোটা এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত পূজা বিশ্বাসের সঙ্গে বিহারের কুখ্যাত অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র মুঙ্গেরের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ট্রেনের টিকিটটি সেই সন্দেহে সিলমোহর দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা গেছে, বিহারের মুঙ্গের থেকে এই বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ট্রেনে করে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাবড়া এলাকায় এনে সেগুলি চড়া দামে বিক্রি করার নীল নকশা তৈরি করেছিল পূজা।
রবিবার সকালে ব্যস্ত রাস্তায় সিআইডি-র এই অতর্কিত অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি হাবড়ায় ঠিক কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল? কারা এই অস্ত্রের মূল ক্রেতা? পূজার পেছনে এই চক্রের আর কোনো বড় মাথা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সিআইডি। সীমান্তবর্তী এই জেলায় নতুন করে মুঙ্গের যোগ সামনে আসায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন