Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

টোটো ইউনিয়নে দেদার তোলাবাজি! বাগদায় দুই আইএনটিটিইউসি নেতার বিরুদ্ধে থানায় চালকেরা

 

Extortion-in-Toto-union

সমকালীন প্রতিবেদন : বাগদা ব্লকের আমডোব এলাকায় টোটো ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে এক গুরুতর আর্থিক তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এল। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র দুই স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে টোটো চালকদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে মঙ্গলবার রাতে বাগদা থানার দ্বারস্থ হন একাধিক টোটো চালক। অভিযুক্ত দুই নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমডোব এলাকার দুই প্রভাবশালী আইএনটিটিইউসি নেতা গণেশ ঘোষ এবং গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে এই তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। টোটো চালকদের অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে আমডোব এলাকায় দাপট খাটিয়ে টোটো চালকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০০ টাকা করে 'মাসোহারা' বা চাঁদা আদায় করা হতো।

শুধু মাসিক ব্যবস্থাপনাই নয়, ইউনিয়নের আওতাভুক্ত করে রুটে নতুন টোটো নামানোর নাম করেও চলত বড় অঙ্কের আর্থিক প্রতারণা। নতুন চালকদের কাছ থেকে এককালীন ২,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জোর করে নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এই জুলুম চললেও, নেতাদের রোষানলে পড়ার এবং রুটে টোটো চালাতে না পারার ভয়ে এতোদিন চালকেরা মুখ খুলতে সাহস পাননি।

ধৈর্যের বাঁধ ভাঙায় মঙ্গলবার রাতে আমডোব এলাকার প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন টোটো চালক একজোট হয়ে বাগদা থানায় পৌঁছান। চালকদের পক্ষে হাবিবুর মণ্ডল নামের এক টোটো চালক ওই দুই আইএনটিটিইউসি নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ওপর মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ চালকেরা।

টোটো চালকদের অভিযোগ, রাস্তায় নতুন টোটো নামাতে গেলে এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এছাড়া দৈনিক টাকাও সংগ্রহ করা হয়। কেউ দিতে অস্বীকার করলে সেই টোটো থেকে যাত্রীদের জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়। অনেক টোটো চালককে ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত করা হয় নি। ফলে তাঁরা টোটো কিনেও যাত্রী তুলতে পারছেন না। 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগদা ব্লকে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা বিক্রম রায়। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময় থেকেই সংশ্লিষ্ট নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে টোটো চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত।

বিজেপি নেতার বক্তব্য, রাজ্যে বর্তমান নতুন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনও ধরনের ইউনিয়নবাজি, সিন্ডিকেট বা জোর করে অর্থ আদায় বরদাস্ত করা হবে না। তা সত্ত্বেও কিছু নেতা পুরনো অভ্যাসবশত এখনও তোলাবাজির কারবার সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশাসন যেন কোনও রাজনৈতিক রং না দেখে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টোটো চালকদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগদা থানার পুলিশ। এখন দেখার, পুলিশ এই তোলাবাজি চক্রের চাঁইদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন