সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্য সরকারের বিশেষ নির্দেশিকাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যজুড়ে পুরসভা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়গুলি থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধীকরণের সমস্ত পুরোনো খাতা ও শংসাপত্র সংরক্ষণের উদ্যোগ নিল রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী বনগাঁ পুরসভা এবং বনগাঁ ব্লকের ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে পুলিশের টিম পৌঁছে জন্ম ও মৃত্যুর যাবতীয় রেজিস্ট্রেশন খাতা পরিদর্শন ও তা নিজেদের হেফাজতে নিল।
বনগাঁ পুরসভা সূত্রে খবর, এদিন বনগাঁ থানার পুলিশ বাহিনী প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে পুরসভায় এসে পৌঁছায়। গত ১৫ থেকে ১৬ বছরের জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও শংসাপত্র খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করে এবং তা সংগ্রহ করে। এ বিষয়ে বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার জানান, উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনেই পুলিশ প্রশাসন পুরসভায় এসেছিল। তারা গত ১৫-১৬ বছরের জন্ম এবং মৃত্যুর যাবতীয় সার্টিফিকেট ও রেজিস্টার ভালো করে যাচাই এবং সংগ্রহ করতে চায়। পুরসভার তরফে পুলিশকে এই কাজে সম্পূর্ণভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করা হয়েছে।
একই ছবি ধরা পড়েছে বনগাঁ ব্লকের ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতেও। ব্লক প্রশাসন তথা বিডিও কার্যালয়ের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী পঞ্চায়েত অফিসে হাজির হন পুলিশ আধিকারিকেরা। সেখানে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত থাকা জন্ম ও মৃত্যুর সমস্ত সরকারি নিবন্ধীকরণ খাতা নিজেদের সংরক্ষণে নেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এই অভিযান সম্পর্কে ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তাপস মণ্ডল জানান, পুলিশ যে পঞ্চায়েতে এসে জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রার পরিদর্শন করবে এবং প্রয়োজনে তা সিজ (বাজেয়াপ্ত) করবে, সে বিষয়ে বিডিও অফিস থেকে তাঁদের আগেই অবহিত করা হয়েছিল। সেই সরকারি নির্দেশ মেনেই ১৯৯৮ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত সমস্ত খাতা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
হঠাৎ কেন এই দীর্ঘ সময়কালের জন্ম-মৃত্যুর নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এ নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হলেও প্রশাসনিক সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই অভিযানের সঙ্গে এনআরসি-র কোনো যোগসূত্র নেই। মূলত সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা এবং জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র সংক্রান্ত তথ্যে কোনো অস্বচ্ছতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই রাজ্য সরকারের নির্দেশে পুলিশের এই বিশেষ পদক্ষেপ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন