Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

অভাবকে হারিয়ে নীল জার্সিতে স্বপ্নপূরণ: ১৫৪ কিমির গতিদানব অশোক শর্মার রাজকীয় আন্তর্জাতিক অভিষেক

 ‌

Ashok-Sharma

সমকালীন প্রতিবেদন : তরুণ পেসার অশোক শর্মার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ২৩ জুলাই, ২০২৬– এই বিশেষ দিনটি। দীর্ঘ পথচলা, পারিবারিক আত্মত্যাগ এবং কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে এদিনই ভারতের নীল জার্সি গায়ে জড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে পদার্পণ করলেন রাজস্থানের এই তরুণ গতিদানব। আফ্রিকার জিম্বাবোয়ের মাটিতে, হারারের ঐতিহাসিক মাঠে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের অধীনে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অধরা স্বপ্ন পূরণ হলো তাঁর।

অশোকের এই জয়যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে এক সাধারণ কৃষক পরিবারের হাড়ভাঙা খাটুনি ও অপরিসীম ত্যাগের কাহিনী। রাজস্থানের জয়পুরের কাছে রামপুর গ্রামের এক অতি সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা ২৩ বছর বয়সি অশোকের। বাবা ও পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুই সন্তানকে একসঙ্গে ক্রিকেটার বানানোর সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। অশোকের বড় ভাই নিজেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু ছোট ভাইয়ের অদম্য প্রতিভা ও গতি দেখে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেন তিনি। পরিবারের সীমিত আয় সত্ত্বেও বাবা ও দাদার সেই মহান ত্যাগই আজ অশোককে দেশের সেরা মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজস্থানের হয়ে নিজের সুইং ও ভয়ংকর গতির জাদুতে দ্রুত নজর কাড়েন অশোক। বিশেষ করে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি ২০২৫-এ মাত্র ৮টি ম্যাচ খেলে ২০টি উইকেট তুলে নিয়ে জাতীয় নির্বাচকদের ঘরে তোলপাড় ফেলে দেন। এর পর আইপিএল ২০২৫-এর নিলামে রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকায় দলে নিলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়। 

তবে অশোকের ওপর আস্থা হারায়নি গুজরাট টাইটান্স। আইপিএল ২০২৬-এর মেগা নিলামে প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি মূল্যে, অর্থাৎ ৯০ লক্ষ টাকায় তাঁকে দলে টানে গুজরাট। ফ্র্যাঞ্চাইজির সেই ভরসার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ঘণ্টায় ১৫৪.২ কিলোমিটার গতিতে বল করে আইপিএল ২০২৬-এর দ্রুততম ডেলিভারির সর্বকালের সেরা রেকর্ড গড়েন তিনি।

ঘরোয়া টি-২০ ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে ২৮টি উইকেট, ৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১৪টি উইকেট এবং ৮টি লিস্ট-এ ম্যাচে ১৪টি উইকেটের মালিক অশোক নিজের গতির ব্যাপারে অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। নিয়মিত ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা এই তরুণ পেস সেনসেশনের সাফ কথা, “আমি কখনোই গতির সঙ্গে আপোস করিনি। সব কিছু ঠিক থাকলে একদিন ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতেও বল করে দেখাব।”

অভিষেকের ঐতিহাসিক ম্যাচে ভারতের একাদশে নামেন বৈভব সূর্যবংশী, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ, শ্রেয়স আইয়ার, তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং, শিবম দুবে, রবি বিষ্ণই, প্রিন্স যাদব ও মায়াঙ্ক যাদবের মতো তারকারা। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ২৯ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি অশোক। জিম্বাবোয়েকে ৭ উইকেটে ১২৫ রানে আটকে রেখে ম্যাচ জিতলেও, উইকেটের খাতা খোলা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের দরবারে ভারতের দ্রুততম বোলারের এই রাজকীয় পদার্পণ স্পষ্ট করে দিল—আগামী দিনে গতির ঝড়ে বিশ্বকে কাঁপাতে প্রস্তুত অশোক শর্মা।‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন