Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

রাজভবনে ৩৫ নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তিতে ৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ রূপ নিল শুভেন্দু মন্ত্রিসভা

 

Shubhendu-Cabinet

সমকালীন প্রতিবেদন : প্রত্যাশামতোই সরকার গঠনের এক মাসের মাথায় বড়সড় রদবদল ও সম্প্রসারণ ঘটল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায়। সোমবার লোকভবনে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নিলেন আরও ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াল ৪১-এ। এদিন রাজকীয় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ‘বন্দে মাতরম’ ও জাতীয় সঙ্গীতের সুর মেলাবার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন পেয়ে রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ভারতীয় জনতা পার্টি। এরপর ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেদিন তাঁর সঙ্গে আরও ৫ জন– দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক শপথ নেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে দপ্তরও বণ্টন করা হয়েছিল।

আজকের এই মেগা সম্প্রসারণের পর মন্ত্রিসভার বিন্যাস অনেকটাই স্পষ্ট। নতুন ৩৫ জন সদস্য যুক্ত হওয়ার পর সমীকরণটি দাঁড়িয়েছে এইরকম:

মোট সদস্য: ৪১ জন (মুখ্যমন্ত্রীসহ), পূর্ণমন্ত্রী: ১২ জন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতি মন্ত্রী: ৩ জন, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী: ৩ জন এবং প্রতিমন্ত্রী: ১৯ জন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। এবারের সম্প্রসারণে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের চমৎকার ভারসাম্য লক্ষ্য করা গেছে।

পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন: তাপস রায়, মনোজ ওরাওঁ, অর্জুন সিংহ, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দীপক বর্মন, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, অরূপ কুমার দাস, স্বপন দাশগুপ্ত, কল্যাণ চক্রবর্তী, শঙ্কর ঘোষ এবং দুধকুমার মণ্ডল।

স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী: মালতি রাভা রায়, राजेश মাহাতো এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন: অশোক দিন্ডা, কৌশিক চৌধুরী, জুয়েল মুর্মু, হরেকৃষ্ণ বেরা, শান্তনু প্রামাণিক, উমেশ রায়, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামি, নাদিয়ার চাঁদ বাউড়ি, গার্গী দাস ঘোষ, অমিয় কিস্কু, কলিতা মাজি, বিরাজ বিশ্বাস, সুমনা সরকার, আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা, দীপঙ্কর জানা প্রমুখ।

এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নতুন মন্ত্রীদের পোশাক। অধিকাংশ মন্ত্রীই খাঁটি বাঙালি সংস্কৃতি মেনে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে শপথ নিতে এসেছিলেন। অনেকেই এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রাখতে সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন লোকভবনে। অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট বসিয়ে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সহ পূর্বেই শপথ নেওয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক ও অশোক কীর্তনীয়া।

কোন মন্ত্রী কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়ে সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। জানা গেছে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই নতুন ও পুরনো সমস্ত মন্ত্রীরা লোকভবন থেকে রওনা দেবেন নবান্নের উদ্দেশ্যে। সেখানেই বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে একটি বিশেষ ক্যাবিনেট বা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী নতুন ৩৫ জন সহকর্মীর হাতে তাঁদের নির্দিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বভার তুলে দেবেন, যার ফলে দীর্ঘ এক মাস ধরে মাত্র ৫ জন মন্ত্রীর ওপর থাকা কাজের অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই লাঘব হবে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন