সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই ফের প্রকাশ্যে এল ‘কাটমানি’ বিতর্ক। এবার চাপের মুখে পড়ে টোটো চালকদের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা ফেরত দিতে গিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হলো গোপালনগর থানার সাতবেড়িয়া এলাকায়। টাকা ফেরতের অঙ্ক নিয়ে টোটো চালকদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে টোটো ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ছয়জনকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতবেড়িয়ার টালিখোলা টোটো ইউনিয়নে মোট ২৬২টি টোটো গাড়ি নথিভুক্ত রয়েছে। চালকদের অভিযোগ, বিগত দিনে তৃণমূল পরিচালিত ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রতিটি টোটো পিছু ১০ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। রুজি-রুটির টানে বাধ্য হয়েই চালকেরা সেই টাকা তুলে দিয়েছিলেন ইউনিয়নের নেতাদের হাতে।
সম্প্রতি রাজ্যে সরকার বদল হতেই ভোলবদল ঘটে ইউনিয়নের নেতাদের। পুরনো দুর্নীতির দায় ঝেড়ে ফেলতে এবং জনরোষের হাত থেকে বাঁচতে তড়িঘড়ি টোটো চালকদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো শুক্রবার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সমস্ত চালকদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু খাম খুলতেই টোটো চালকদের চোখ চড়কগাছ হয়ে যায়। চালকদের দাবি, যেখানে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে খামে ভরে ফেরত দেওয়া হচ্ছিল মাত্র ২,৮০০ টাকা।
ক্ষুব্ধ টোটো চালকদের বক্তব্য, "আমাদের রক্ত জল করা হাজার হাজার টাকা লুঠ করা হয়েছে। আর আজ সরকার বদল হতেই আমাদের চোখে ধুলো দিতে নামমাত্র টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই সামান্য টাকা কোনোভাবেই নেব না।"
এই নামমাত্র টাকা ফেরতের ঘটনা সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন চালকেরা। টাকা না নিয়ে ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। বকশিস বা দয়া নেওয়ার মতো করে এই নামমাত্র টাকা ফেরত দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান তাঁরা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোপালনগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বড়সড় আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে পুলিশ ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন