Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

রেল সম্প্রসারণের নোটিশে বিপাকে হাজারো পরিবার: উচ্ছেদের আশঙ্কায় পুনর্বাসনের দাবিতে সোচ্চার বনগাঁর ব্যবসায়ীরা

Railway-Expansion

সমকালীন প্রতিবেদন : রেললাইনের সম্প্রসারণ ও ডবল লাইন পাতার পরিকাঠামো উন্নয়নের জেরে উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন বনগাঁর বহু সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যেই রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রেলের জমি খালি করার নোটিশ জারি করা হয়েছে। আর এই নোটিশ ঘিরেই চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে রানাঘাট–বনগাঁ রেল শাখা সংলগ্ন এলাকায়। জীবিকা ও বাসস্থান হারানোর আশঙ্কায় এবার পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষ। রেলের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় প্রতিবাদ মিছিলও সংগঠিত করা হয়েছে।

পূর্ব রেল সূত্রের খবর, রানাঘাট–বনগাঁ রেল শাখায় ডবল লাইন বসানোর এক বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ভারতীয় রেল। এই কাজের গতি বাড়াতেই রেলের জমি দখল মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ২২ জুনের মধ্যে রেলের জমিতে থাকা সমস্ত বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জায়গা খালি করে দিতে হবে। এই নোটিশ জারি হওয়ার পর থেকেই বনগাঁ স্টেশন সংলগ্ন এলাকার কয়েকশো মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে ছোটখাটো দোকানপাট বা ঘরবাড়ি বানিয়ে দিন গুজরান করছেন বহু মানুষ। আকস্মিক এই উচ্ছেদ নোটিশে তাদের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অন্ধকারের মুখে। জানা গেছে, এই উচ্ছেদের ফলে প্রায় ১ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

স্থানীয় চায়ের দোকানদার সাধনা ঘোষ অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপের সঙ্গে জানান, "এই ছোট্ট চায়ের দোকানটির উপার্জনের ওপরেই আমার পুরো সংসার চলে। রেল এখন দোকান সরিয়ে নিতে বলছে। কিন্তু অন্য কোথাও নতুন করে জায়গা কিনে ব্যবসা শুরু করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। এখন আমরা কোথায় যাব, কী করে বাঁচব?"

বহু বছর ধরে রেলের জায়গায় মুদি দোকান চালাচ্ছেন সুজয় বিশ্বাস নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এই ব্যবসায়ী জানান, "এই দোকান চালিয়েই পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিই। ২২ জুনের মধ্যে সব খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। আমরা রেলের কাছে মানবিক বিবেচনার আর্জি জানাচ্ছি।" উচ্ছেদের মুখে পড়া এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে 'রেলবাজার সমন্বয় কমিটি' এবং 'রেলবাজার ব্যবসায়ী সমিতি'। ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রেলের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় এক হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রেলবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাক রানা সাহা জানান, "রেল সম্প্রসারণের জন্য প্রকৃত অর্থে যতটুকু জায়গার প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু জায়গার জন্য যাদের সরানো অনিবার্য, শুধু তাদেরই সরানো হোক। এবং অবশ্যই সরানোর আগে তাদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বাকিদের যেন আপাতত রেহাই দেওয়া হয়, যাতে এতগুলো সংসার অকাল ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায়।" এই দাবিকে সামনে রেখে এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে রেল পুলিশ সহ রেলের বিভিন্ন বিভাগে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়া সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় একটি বৃহৎ প্রতিবাদ মিছিলও বের করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই এদিন বনগাঁ–রানাঘাট রেল শাখায় প্রস্তাবিত ডবল লাইনের কাজ শুরুর আগে পরিস্থিতি দেখতে এদিন বনগাঁ স্টেশন সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে আসেন পূর্ব রেলের শিয়ালদার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব রাজীব সাক্সেনা। উচ্ছেদ বা পুনর্বাসন নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, পরিদর্শনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে তিনি জানান, রানাঘাট ও বনগাঁ রেল শাখার মধ্যে ডবল লাইন পাতার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় রেল। মূল কাজ শুরু করার আগে বর্তমান পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতেই তাঁর এই বনগাঁ সফর।

উন্নয়নের স্বার্থে ডবল লাইনের প্রয়োজনীয়তা যেমন অনস্বীকার্য, তেমনই এক লপ্তে এত মানুষের রুটিরুজি চলে যাওয়াও এক বিরাট মানবিক সংকট তৈরি করছে। এখন দেখার, রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের এই টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে সাধারণ মানুষের পুনর্বাসনের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন