Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

উদ্‌যাপনে রাশ আরসিবির: ট্রফি জিতলেও বেঙ্গালুরুতে হচ্ছে না কোনো বিজয়োৎসব

 ‌

No-victory-celebrations

সমকালীন প্রতিবেদন : গতবারের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা এবং কর্ণাটকের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার আইপিএল জয়ের পর কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) কর্তৃপক্ষ। রবিবাসরীয় ফাইনালে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে বিরাট কোহলির দল। ১৭ বছরের খরা কাটিয়ে গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রথমবার ট্রফি জিতেছিল আরসিবি। 

কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়ের উদযাপন নিমেষের মধ্যে রূপ নিয়েছিল এক চরম ট্র্যাজেডিতে। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১১ জন সমর্থকের এবং আহত হয়েছিলেন আরও বহু মানুষ। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি উস্কে দিয়ে এবার আর কোনো রকম বিজয় শোভাযাত্রা বা বড়সড় উদযাপনের পথে না হাঁটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি।

ট্রফি জিতে সোমবারই বেঙ্গালুরুতে পা রেখেছে দল। তবে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই উন্মাদনার মাঝেই আরসিবি ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, "আপনারা নিরাপদ থেকে ঘরে বসেই সেলিব্রেট করুন।" বেঙ্গালুরু পুলিশের পক্ষ থেকেও শহরবাসীর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, রাস্তায় নেমে বাজি পোড়ানো, যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। 

পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার জানিয়েছেন, কেউ উদযাপন করতে চাইলে তা ঘরের ভেতরেই করতে পারেন। আরসিবির এই সংযত আচরণের পিছনে গতবারের দুর্ঘটনার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কারণও রয়েছে। কর্ণাটকের সদ্য নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে চলেছে লোকভবনে, যা চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের অত্যন্ত কাছেই অবস্থিত। এই হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল জনসমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতির কারণে সেখানে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন। ফলে একই দিনে আরেকটি বড় মাপের ইভেন্টের জন্য বাড়তি পুলিশি পারমিট বা নিরাপত্তা পাওয়া কার্যত অসম্ভব ছিল। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরসিবির এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, "বেঙ্গালুরুতে বড় কোনো উদযাপনের সম্ভাবনা নেই। নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক নির্দেশিকা রয়েছে এবং আমাদের তা মেনেই চলতে হবে।"

এর পাশাপাশি ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের ব্যস্ততাও এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে। ট্রফি জয়ের পরেই বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিজ নিজ দেশের জাতীয় দলে যোগ দিতে হচ্ছে। ওপেনার দেবদত্ত পাডিক্কলকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য ভারতীয় স্কোয়াডে যোগ দিতে হবে। 

অন্যদিকে জশ হ্যাজেলউড, টিম ডেভিড, জ্যাকব ডাফি এবং রোমারিও শেপার্ডের মতো বিদেশি ক্রিকেটাররাও দেশের ডাক পেয়ে রওনা দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রায় সব ক্রিকেটারই নিজেদের বাড়ি ফিরে যাবেন। ফলে রাতারাতি কোনো বড় উৎসবের আয়োজন করা আরসিবি ম্যানেজমেন্টের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ট্রফি জিতলেও তাই উৎসবের শহর বেঙ্গালুরুতে এবার শুধুই নীরবতা আর সংযমের পরিবেশ।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন