Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

বেদখল হওয়া সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী বনগাঁ পুরসভা, নোটিশ ঝুলিয়ে কব্জায় কমিউনিটি হল ও পার্ক

 

Municipality-to-recover-property

সমকালীন প্রতিবেদন : বেআইনি দখলদারদের হঠিয়ে পুরসভার নিজস্ব সম্পত্তি নিজেদের হেফাজতে নিতে এবার কঠোর অবস্থান নিল বনগাঁ পুরসভা। সোমবার এক হাইভোল্টেজ অভিযানে মতিগঞ্জ আয়রনগেট ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘হারাধন আঢ্য স্মৃতি কমিউনিটি হল’ (নিরালা কটেজ), সংলগ্ন সিটিজেন পার্ক এবং বনগাঁ সুতি বস্ত্র পাইকারি হাটের জন্য নির্দিষ্ট টিনের সেডটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিল পুর কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে শহরের বেদখল হয়ে যাওয়া সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করল প্রশাসন।

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বনগাঁ পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পুর-সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তকে কার্যকর করতেই সোমবার পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ময়দানে নামেন পুর আধিকারিকরা। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকের নির্দেশিকা সম্বলিত আনুষ্ঠানিক নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পুর কর্তৃপক্ষের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে এলাকা জুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে।

পুরসভার এই অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের মনে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা দ্রুত নিরসন করেছেন বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার। তিনি স্পষ্ট জানান, "আইন ও নিয়ম মেনেই পুরসভার সম্পত্তি পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই কটেজে বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। যাঁদের আগে থেকে বুকিং করা রয়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁরা সরাসরি পুরসভায় যোগাযোগ করলে পূর্ব নির্ধারিত দিনেই অনুষ্ঠান করতে পারবেন।"

তবে তিনি একই সাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন যে, আগামীতে এই কটেজ বা পার্ক ভাড়া নিতে হলে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি পুরসভা অফিসে এসে সরকারি নিয়ম মেনে বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এখন থেকে এই সমস্ত সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুরসভার নিজস্ব কর্মী বা স্টাফ নিয়োগ করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার এই মূল্যবান সম্পত্তিগুলি অবৈধভাবে বেদখল হয়ে থাকায় ব্যাহত হচ্ছিল নাগরিক পরিষেবা। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল পুরসভা। অর্থ আদায় করে নিচ্ছিল দখলকারীরা। এবারে সেপথ বন্ধ হয়ে গেল। পুরসভার এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

পুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই পুনরুদ্ধার অভিযান এখনই থামবে না। শহরের সমস্ত বেদখল হওয়া সম্পত্তি ধাপে ধাপে উদ্ধার করা হবে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই স্বচ্ছ বুকিং প্রক্রিয়ার ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে পুরসভার রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন