সমকালীন প্রতিবেদন : স্কুল থেকে ভ্যানরিক্সায় চেপে বাড়ি ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ল স্কুলছাত্রীরা। সোমবার সকালে পেট্রাপোল থানার অন্তর্গত যশোর রোডের জামতলা এলাকায় একটি বেপরোয়া গতির চারচাকা গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে ছাত্রীবাহী একটি ভ্যানে। এই ঘটনায় ৪ জন স্কুলছাত্রী এবং ভ্যানচালক গুরুতর জখম হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তৎপর হন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি দ্রুত হাসপাতালে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত ছাত্রীরা প্রত্যেকেই পেট্রাপোল এলাকার বাসিন্দা এবং ঠাকুর হরিদাস গার্লস হাইস্কুলের পড়ুয়া। সোমবার সকালে স্কুল শেষ করে ভ্যানে চেপে বাড়ি ফিরছিল নবম শ্রেণির অনন্যা বিশ্বাস, মেঘা সরকার, সালমা মন্ডল এবং ষষ্ঠ শ্রেণির দিশা রায়সহ আরও এক ছাত্রী। অভিযোগ, জামতলা এলাকায় রাস্তার ধারে ভ্যানরিক্সাটি দাঁড়িয়ে থাকার সময় পেট্রাপোলগামী একটি চারচাকা গাড়ি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে এসে সেটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
সংঘর্ষের অভিঘাতে ভ্যানে থাকা সমস্ত ছাত্রী ছিটকে রাস্তায় আছাড় খেয়ে পড়ে। ঘটনার পরই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রীদের উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। একজন ছাত্রীর আঘাত সামান্য থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, বাকিদের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভরতি রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার তীব্রতা প্রকাশ করে জখম ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়েরা যে ভ্যানটিতে ছিল, সেটি রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়েই ছিল। পিছন থেকে ধেয়ে আসা চারচাকা গাড়িটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন কাণ্ড ঘটাল। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাক্তার কৃষ্ণ বাড়ুই জানিয়েছেন, চারজন ছাত্রীরই মাথায় চোট লেগেছে। তবে বর্তমানে চিকিৎসা চলায় তাদের অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল এবং কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভ্যানচালকের আঘাত বেশ গুরুতর হওয়ায় তাঁর বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি কালক্ষেপ না করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিজের বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠান। মন্ত্রীর প্রতিনিধিরা হাসপাতালে পৌঁছে জখম ছাত্রীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার সমস্ত বন্দোবস্ত করেন।
খাদ্যমন্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যশোর রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বেপরোয়া গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি তুলেছে অভিভাবক মহল। ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি চম্পট দিলেও, পেট্রাপোল থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই সেটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।

.jpeg)






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন