সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের রূপায়ণে গতি এনেছে নতুন সরকার। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে আরও কিছু বড় পদক্ষেপ। আগামী সপ্তাহ থেকেই ‘মা আহার’ প্রকল্পে মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে সপ্তাহে দু’দিন করে সাধারণ মানুষ পাতে মাছ পাবেন। রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিজেপির এক প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বড় ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত ও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।
এদিনের সভা থেকে বিরোধীদের কড়া ভাষায় বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের আগে বিরোধীদের করা প্রচারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওরা বলেছিল বিজেপি এলে নাকি আর মাছ খাওয়া যাবে না। অথচ আগামী সপ্তাহ থেকেই ‘মা আহার’ সরকারি উদ্যোগে মানুষ পাঁচ টাকার বিনিময়ে সপ্তাহে দু’দিন করে মাছ পাবেন।” সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও রসনাতৃপ্তির কথা মাথায় রেখেই যে এই উদ্যোগ, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।
রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে কেন্দ্র যে সম্পূর্ণ পাশে রয়েছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, যেকোনো উপায়ে বাংলাকে অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগতভাবে স্বাবলম্বী করে দাঁড় করাতে হবে। যাঁরা সশরীরে আসতে পারছেন না, তাঁরা ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘নলে জল’ (জল জীবন মিশন) এবার এরাজ্যে পুরোদমে চালু হতে চলেছে। এর জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যা রাজ্যের ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেবে।
রাজ্যবাসীর জন্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় দুটি বড় সুখবর দেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবারই দিল্লির দরবার থেকে এই রাজ্যের জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য যোজনার টাকা বরাদ্দ হতে চলেছে। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৬ লক্ষ পরিবার নিখরচায় উন্নত চিকিৎসার এই কেন্দ্রীয় সুবিধা পাবেন। এছাড়া, এরাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অগ্রগতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ মা-বোনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম দিনেই দেওয়া হয়েছিল ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৭০ জনকে।
এদিনের মঞ্চ থেকে পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর গরমিলের খতিয়ান পেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, তদন্তে দেখা গেছে আগে প্রায় ২৭ লক্ষ এমন মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছিলেন যাঁরা আদতে ভোটারই নন। শুধু তাই নয়, মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রকল্পে প্রায় ৩ লক্ষ পুরুষের নাম নথিভুক্ত ছিল, যাঁরা নিয়মিত টাকা পাচ্ছিলেন। এর উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, কেবল জঙ্গিপুর ব্লকেই এমন ৪৫০০ জন পুরুষের সন্ধান মিলেছে, যাঁরা বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা ভোগ করছিলেন। নতুন সরকার এই সমস্ত গরমিল দূর করে প্রকৃত প্রাপকদের হাতেই সরকারি অনুদান পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন