সমকালীন প্রতিবেদন : ভুয়ো এসসি সার্টিফিকেট তৈরি করে রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন বনগাঁর তৃণমূল নেতা ও তাঁর স্ত্রী। ধৃতদের নাম প্রসেনজিৎ ঘোষ এবং উমা ঘোষ। প্রসেনজিৎবাবু বর্তমানে বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ এবং উমাদেবী বনগাঁ ব্লকের ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান। দীর্ঘ আন্দোলনের পর তাঁদের এই গ্রেপ্তারিকে নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘ। শনিবার ধৃত দম্পতিকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের বনগাঁ মহকুমা সম্পাদক প্রসেনজিৎ বিশ্বাস এবং অফিস সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে উমা ঘোষ সাধারণ (জেনারেল) প্রার্থী হিসেবে ভোটে জেতেন। কিন্তু পরবর্তীতে পঞ্চায়েত প্রধানের পদটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত থাকায়, সেই আসনটি দখল করার উদ্দেশ্যে বাগদা থানা এলাকার অন্য একটি পরিবারকে নিজের বাবা ও বোন হিসেবে দেখিয়ে মিথ্যা পরিচয়ের আশ্রয় নেন তিনি।
নিজের দুই ভাই থাকা সত্ত্বেও উমাদেবী তার বংশ তালিকায় তাদের কথা উল্লেখ করেন নি। উমাদেবীর স্বামী প্রসেনজিৎ ঘোষ নিজেই ছয়ঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে তাঁর ভুয়ো বংশ তালিকা সহ অন্যান্য নথি প্রত্যয়িত করেন। ফলস্বরূপ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আবেদনের মাত্র এক দিনের মধ্যেই এসসি সার্টিফিকেট পেয়ে যান উমাদেবী এবং পঞ্চায়েত প্রধানের আসনে বসেন।
ঘটনাচক্রে এই বিষয়টি নজরে আসতেই ২০২৩ সালে এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নামে সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘ। তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) খতিয়ান ও বিভিন্ন উৎস থেকে খোঁজ নিয়ে তাঁরা এই জালিয়াতি সামনে আনেন। এরপর বিষয়টি হাইকোর্টে উঠলে আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে প্রশাসন। সংঘের দাবি অনুযায়ী, তদন্তে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ২ জুন উমাদেবীর সার্টিফিকেট বাতিল করা হয় এবং ৩ জুন তাঁর বিরুদ্ধে বনগাঁ থানাকে এফআইআর করার নির্দেশ দেন মহকুমা শাসক।
যদিও তৎকালীন থানার আধিকারিক এব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ। তবে সেই সময় ব্যক্তিগত সমস্যার কারণ দেখিয়ে প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন উমাদেবী। এর পর প্রায় এক বছর কেটে যাওয়ার পর, গত ৪ মে মতুয়া মহাসংঘ পুনরায় বনগাঁর পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়ে এব্যাপারে পদক্ষেপের দাবি জানায়। অবশেষে পুলিশ সুপারের নির্দেশে গত ২৫ মে প্রসেনজিৎ ঘোষ ও উমা ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২৯ মে, শুক্রবার রাতে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার তাদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক তাদেরকে ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এব্যাপারে প্রসেনজিৎ ঘোষ জানান, 'মতুয়া মহা সংঘের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনের উপর আস্থা আছে। আশাকরি তদন্তে সঠিক বিষয়টি উঠে আসবে'। উমাদেবী বলেন, 'ভুল করলে আইন বিচার করবে, আর ভুল না করলে আইন পাশে থাকবে'।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মতুয়া মহাসংঘের দাবি, আবেদনের একদিনের মধ্যে কীভাবে সার্টিফিকেট দেওয়া হলো, তার পেছনে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা জানান, বনগাঁর আরও ৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা চলছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন