Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

রেশন দুর্নীতি ‘অতীত’, সাত দিনেই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে খাদ্য ভবনে দাপুটে প্রবেশ অশোক কীর্তনীয়ার

 

Food-Minister

সমকালীন প্রতিবেদন : “না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা”– প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই বিখ্যাত স্লোগানকেই হাতিয়ার করে রাজ‍্যের খাদ্য দপ্তরে আমূল পরিবর্তনের ডাক দিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। মঙ্গলবার প্রথমবার খাদ্য ভবনে পা রেখেই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, পূর্বতন তৃণমূল জমানার দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর সাফ কথা, সাধারণ মানুষের খাবারের থালা নিয়ে ছিনিমিনি যারা খেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে কড়া আইনি পদক্ষেপ।

শনিবার ব্রিগেডের মেগা শপথ অনুষ্ঠানের পর সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের দপ্তর বণ্টন করেন। সেখানে বনগাঁ উত্তরের টানা দু’বারের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়ার ওপর আস্থা রেখে খাদ্য দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেই মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, “আপনারা আমাকে মাত্র সাত দিন সময় দিন। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বাস করেই আমাকে এই দপ্তরে পাঠিয়েছেন। দপ্তরের ভেতর জমে থাকা দুর্নীতির পাহাড় পরিষ্কার করাই আমার প্রথম কাজ।”

নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি মাটির মানুষ, সারা জীবনে নিজের গায়ে কাদা লাগতে দিইনি। এই দপ্তরেও কোনো দুর্নীতি বরদাস্ত করব না। আগামী জুন মাস থেকেই রাজ্যবাসী উৎকৃষ্ট মানের রেশন সামগ্রী পাবেন।”

তৃণমূল জমানায় এই খাদ্য দপ্তরই ছিল সবচেয়ে বিতর্কিত। রেশন দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ হয়ে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের জেলা উত্তর ২৪ পরগনা থেকেই উঠে আসা অশোক কীর্তনীয়া এবার সেই দপ্তরেরই ‘শুদ্ধিকরণ’-এ নেমেছেন। 

এ দিন মন্ত্রী নাম না করে পূর্বসূরিদের কটাক্ষ করে বলেন, “দুর্নীতি এখন অতীত। প্রাতিষ্ঠানিক চুরির পথ বন্ধ করতে অনেক কিছুই বদলে যাবে। এমনকি যাঁরা এ দেশের নাগরিক নন, তাঁরা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পাবেন না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, অশোক কীর্তনীয়ার এই কড়া মনোভাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামনে আরও অনেকেই আইনের জালে ধরা পড়তে চলেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১-এর পর ২০২৬-এও বনগাঁ উত্তর থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন অশোকবাবু। এবার তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটে পরাজিত করে তিনি নিজের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ দিয়েছেন। বনগাঁর ‘ঘরের ছেলে’ গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়ায় সীমান্ত শহর বনগাঁর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের মেজাজ। খুশির হাওয়া মন্ত্রীর পরিবারেও।

রাজ্যের মানুষের নজর এখন জুন মাসের দিকে। নতুন মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ বণ্টনের মাধ্যমে রাজ্যবাসী প্রকৃত পরিষেবা পান কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে প্রথম দিনেই মন্ত্রীর মারকুটে মেজাজ যে খাদ্য দপ্তরের আমলা ও অসাধু চক্রের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন