সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় উজ্জীবিত শিক্ষা মহল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মসলন্দপুরে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহা সঙ্ঘের উদ্যোগে একটি বিশেষ আলোচনা সভা ও বিজয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নতুন ও পুরনো মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশাল সমাবেশের রূপ নেয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতির বাতাবরণ থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দে এদিন মসলন্দপুরের সভাস্থল ছিল উৎসবমুখর। উপস্থিত শিক্ষক সমাজের দাবি, বিগত সরকারের আমল ছিল আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত। সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটায় এদিন একে অপরকে লাড্ডু খাইয়ে ও আলিঙ্গন করে আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা।
সভার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল মন্ডল। তিনি কড়া ভাষায় পূর্বতন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, "আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আমরা এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দেব যা হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, তোষণমুক্ত এবং দুর্নীতিহীন। সাধারণ মানুষের স্কুল শিক্ষার ওপর থেকে যে আস্থা হারিয়ে গিয়েছিল, তা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, মেধা ও যোগ্যতাকে মর্যাদা দিয়ে রাজ্যের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংগঠন বদ্ধপরিকর। সংগঠনের জেলা সম্পাদক হিমাংশু হালদার তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
হিমাংশুবাবু জানান, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিকাঠামোগত আমূল সংস্কার। তিনি বলেন, স্কুলে পঠন-পাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একটি সত্যিকারের আদর্শ শিক্ষণ পরিবেশ তৈরিতে সংগঠন দিনরাত কাজ করে যাবে।
সভায় উপস্থিত সাধারণ শিক্ষকদের চোখেমুখে ছিল আগামীর স্বপ্ন। তাঁদের মতে, এই রাজনৈতিক পরিবর্তন শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে শিক্ষকরা যাতে নির্ভয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই দাবিও জোরালোভাবে উঠে আসে এই সভা থেকে।
মসলন্দপুরের এই বৈঠক কার্যত বার্তা দিল যে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে ময়দানে নেমেছে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহা সঙ্ঘ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন