Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

বনগাঁ হাইস্কুলে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্তের দাবিতে সরব শিক্ষকেরা

 ‌

Bongaon-High-School

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই বনগাঁ হাইস্কুলের অর্থনৈতিক দুর্নীতি সহ একাধিক অনিয়ম এবার প্রকাশ্যে চলে এলো। সমস্ত বিষয়গুলি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে তদন্তের দাবি করে সরব হলেন স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা। মঙ্গলবার স্কুলের ৫০ জন শিক্ষক–শিক্ষিকার স্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্র জমা পড়ল বনগাঁর অতিরিক্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে। অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি পাঠানো হলো জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, মহকুমা শাসক, বিধায়ক, পুরপ্রধানের দপ্তরেও।

স্কুল শিক্ষা দপ্তরে জমা পড়া ওই অভিযোগপত্রে স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকারা দাবি করেছেন, স্কুলের মিড ডে মিল নিয়ে নানা অনিয়ম চলছে বহু বছর ধরে। সরকার স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য যে পরিমান অর্থ বরাদ্দ করছে, তার সামান্য অংশ খরচ করা হচ্ছে। বাকি সরকারি টাকা বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে স্কুলের শিক্ষক–শিক্ষিকাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি নিয়মকে অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন অজুহাতে স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে মোটা টাকা নেওয়া হচ্ছে। অথচ তার বিনিময়ে বৈধ রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত এই টাকার বোঝা সামলাতে গিয়ে অনেক দরিদ্র পরিবারের ছাত্রকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী এইভাবে ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন শিক্ষকেরা।

এছাড়াও, স্কুলের নির্দিষ্ট কমিটি, শিক্ষক–শিক্ষিকাদের অন্ধকারে রেখে, তাঁদেরকে বাদ দিয়ে আর্থিক বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আর এইভাবেই 'শিক্ষার অধিকার' এর গাইডলাইন না মেনে অনিয়ম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর এই সমস্ত অনিয়মের জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষক কুনাল দে কে দায়ি করেছেন স্কুলের প্রতিবাদী শিক্ষক–শিক্ষিকারা।

এব্যাপারে স্কুলের প্রতিবাদী শিক্ষকদের পক্ষে চন্দন ঘোষ অভিযোগ করেন, বনগাঁর ঐতিহ্যবাহী বনগাঁ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কুনাল দে রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে বলিয়ান হয়ে একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুলে প্রায় ১৫০০ ছাত্র থাকলেও মিল ডে মিলে বাস্তবে দৈনিক ১০০ জন ছাত্রের রান্না হয় কি না সন্দেহ। এক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরাকে ব্যবহার করা হয় না।

তাঁর আরও অভিযোগ, 'স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতির মদতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক এইভাবে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করছেন। এব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্কুলের অনেক শিক্ষককেই হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে আবেদন, অবিলম্বে এব্যাপারে তদন্ত করে এইরকম দুর্নীতিগ্রস্থ প্রধান শিক্ষককে বনগাঁ হাইস্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী স্কুলকে বাঁচাতে তাঁকে দূরবর্তী কোনও স্কুলে স্থানান্তরিত করা হোক।'‌

যদিও এব্যাপারে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কুনাল দে জানান, 'স্কুলের সমস্ত আয়‌–ব্যয়ের হিসাব নিয়ে অডিট হয়।'‌ ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জানান, 'সারা বছর ধরে স্কুলের নানা ধরনের খরচ থাকে। আর সেই খরচ সামলাতে একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়।'‌ 

বনগাঁ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা এই অনিয়মের সঙ্গে সহমত হয়ে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের পক্ষে অনুপ দাস, জয়দেব বিশ্বাস, দেবল মন্ডল, দেবাশিষ হালদারেরা জানান, '‌বনগাঁ হাইস্কুলের প্রতিবাদী শিক্ষকদের আনা অভিযোগ আমাদের কাছেও এসেছে। এব্যাপারে আমরাও ওই শিক্ষকদের পাশে থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি। শুধু এই স্কুল নয়, বনগাঁর যে যে স্কুলের বিরুদ্ধে এই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, সেইসব স্কুলেই যেন সরকারি পর্যায়ে তদন্ত হয়, তার দাবি জানাচ্ছি।'  



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন