Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে বনগাঁয় ধৃত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর আত্মীয়, উদ্ধার শয়ে শয়ে ত্রিপল ও থান কাপড়

 

Embezzlement-of-Relief-Supplies

সমকালীন প্রতিবেদন : সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরি করে বেআইনিভাবে মজুত রাখার অভিযোগে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য এবং তাঁর এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করল পুলিশ। বনগাঁ ব্লকের কালুপুর পঞ্চায়েতের হানিডাঙা এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ধৃতদের নাম শংকর মণ্ডল (তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য) এবং নারায়ণ মণ্ডল (সম্পর্কে তাঁর আত্মীয়)। তাঁদের কাছ থেকে কয়েকশো ত্রিপল, চাদর ও প্রচুর সাদা থান কাপড় উদ্ধার করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ত্রাণের জিনিসপত্র সাধারণ মানুষকে না দিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে– এমন খবর পেয়েই রবিবার সরব হন গ্রামবাসীরা। প্রথমে উত্তর কালুপুরে তৃণমূল সদস্য শংকর মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১০০টি ত্রিপল উদ্ধার করেন তাঁরা। এরপর তাঁর আত্মীয় নারায়ণ মণ্ডলের বাড়ি, কলাবাগান এবং চাষের জমির ঘরে অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকশো ত্রিপল, কাপড় ও চাদর উদ্ধার হয়। ক্ষুব্ধ জনতা উদ্ধার হওয়া সমস্ত মালামাল পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। কালুপুর পঞ্চায়েতের বিজেপির বিরোধী দলনেতা সৌমেন সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গরিব মানুষ যখনই প্রধানের কাছে ত্রিপল চাইতে গেছেন, তখনই বলা হয়েছে ত্রিপল আসেনি। অথচ তৃণমূল নেতাদের বাড়ি থেকে শয়ে শয়ে ত্রিপল বেরোচ্ছে। বন্যার এই ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে কালোবাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল ওঁদের। পঞ্চায়েত বোর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতের অন্ধকারে এগুলো সরানো হচ্ছিল।" 

উদ্ধার হওয়া সাদা থান কাপড় প্রসঙ্গে বিজেপির পক্ষ থেকে আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জিতলে এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়ির বউদের জোর করে বিধবার সাজে সাদা থান পরানোর এক ভয়ঙ্কর নীলনকশা তৈরি করেছিল শাসকদল, আর সেই কারণেই এই থান কাপড় মজুত করা হয়েছিল।

এলাকার প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য লতিকা মণ্ডলও এই ঘটনার নিন্দা করে জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনও পঞ্চায়েত সদস্য এভাবে নিজের বাড়িতে ত্রাণের সামগ্রী মজুত করে রাখতে পারেন না। তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

যদিও সমস্ত চুরির ও আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ধৃত তৃণমূল সদস্য শংকর মণ্ডল। তাঁর দাবি, "আমি বনগাঁ পৌরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের কাছ থেকে এই ত্রিপলগুলো এনেছিলাম। প্রতি বছর বর্ষার আগে গ্রামের অভাবী মানুষদের সাহায্য করার জন্যই এভাবে ত্রিপল জোগাড় করে রাখা হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে নয়, বিলি করার জন্যই এগুলো আনা হয়েছিল।"




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন