সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সোমবার নবান্নে নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলি বণ্টন করা হয়েছে, তেমনই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "দল নয়, অগ্রাধিকার পাবে মানুষ।"
শনিবার ব্রিগেডের মেগা মঞ্চে শপথ নেওয়ার পর সোমবার নবান্নের ১৪ তলায় নির্দিষ্ট কক্ষে প্রথম বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পাঁচ ক্যাবিনেট মন্ত্রী। বৈঠক শেষে নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ: অভিজ্ঞ এই নেতার কাঁধে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের গুরুভার।
অগ্নিমিত্রা পাল: তিনি সামলাবেন নারী ও শিশু কল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।
নিশীথ প্রামাণিক: উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে তাঁকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রকের পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অশোক কীর্তনীয়া: মতুয়া প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর।
ক্ষুদিরাম টুডু: তিনি আদিবাসী উন্নয়ন এবং অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন।
মুর্শিদাবাদের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানান, দপ্তর বণ্টন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নতুন সরকার তার কাজ শুরু করল। আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে পৃথক একটি বৈঠকও ডাকা হবে। এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক ও সচিবদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পূর্বতন সরকারের আমলে হওয়া কোনো দুর্নীতিই আর বরদাস্ত করা হবে না।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য নির্দেশিকাগুলি হল–
সিন্ডিকেট রাজের অবসান: অটো বা টোটো স্ট্যান্ডে কুপন ছাপিয়ে বেআইনি টাকা তোলা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অবৈধ কারবার বন্ধ: রাজ্যের সমস্ত বালি ও কয়লা খাদান এবং অবৈধ গোরুর হাট বন্ধের জন্য কড়া ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
জমির অধিকার: সরকারি জমি জবরদখল রুখতে জেলাশাসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
এক মাসের ডেডলাইন: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে জেলাশাসকদের, অন্যথায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক মাস পর কাজের পুনর্মূল্যায়ন হবে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েও রূপরেখা তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, রাজ্যে ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করা হবে এবং স্বাস্থ্যসাথীকে সেই কাঠামোর মধ্যেই নিয়ে আসা হবে। এছাড়াও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "মানুষের কথা ধৈর্য ধরে শুনতে হবে। তোষামোদের সংস্কৃতি ত্যাগ করে সরকারি আধিকারিকদের জনগণের কল্যাণে মনোনিবেশ করতে হবে।" প্রথম বৈঠকেই তাঁর এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনের অলিন্দে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন