Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

নবান্নে নতুন যুগের সূচনা: প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

 

First-Cabinet-Meeting

সমকালীন প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। নবান্নে রাজকীয় সম্মানে গার্ড অফ অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হলো রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁকে বরণ করে নেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দায়িত্ব গ্রহণের পরেই নবান্নের ১৪ তলায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই রাজ্যের ভোল বদলে দিতে ৬টি বড়সড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল নতুন সরকার।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পসমূহে অংশগ্রহণ: দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ অবশেষে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে যুক্ত হলো। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই এই সুবিধা কার্যকর হবে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০-এর মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো রাজ্যে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও জমি হস্তান্তর: অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, "রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, তাই সীমান্ত সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার।"

নিয়োগ ও সরকারি নীতি: রাজ্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সেভাবে নিয়োগ হয়নি, যা এবার গতি পাবে। পাশাপাশি রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে নতুন 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'।

জনগণনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আজ থেকেই রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু হচ্ছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালের জুন মাসে কেন্দ্র চিঠি পাঠালেও আগের সরকার তা ফাইলবন্দি করে রেখেছিল।

সাধারণ মানুষের আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্তমানে চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে তিনি একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, "অভারতীয় বা মৃত ব্যক্তিরা আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।" স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো হবে।

পরিবর্তনের লড়াইয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত ৩২১ জন শহিদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক নতুন প্রশাসনিক দর্শনের কথা বলেন। তিনি বলেন, "এই সরকার 'আমিত্বে' বিশ্বাস করে না, 'আমরা' নীতিতে চলবে। 'ফর দ্য পার্টি' ব্যবস্থা তুলে দিয়ে আমরা বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শে 'ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল' নীতিতে প্রশাসন পরিচালনা করব।"

উল্লেখ্য, এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। যদিও তাঁদের দফতর বণ্টন এখনও বাকি, তবে প্রথম বৈঠকেই একগুচ্ছ সংকল্প নিয়ে নতুন সরকার তার যাত্রাপথ স্পষ্ট করে দিল। পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'সংকল্পপত্র'-এর বাকি ঘোষণাগুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।‌ পরবর্তী ক্যাবিনেট বৈঠক আগামী সোমবার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন