সমকালীন প্রতিবেদন : ভোট আসে, ভোট যায়– কিন্তু নিয়তি বদলায় না বাগদার হরিহরপুর গ্রামের বাসিন্দা তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য মাজেদ মল্লিকের। গত সাত-আট বছরের ‘অভিশপ্ত’ ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ফের নির্বাচনের মুখে দুষ্কৃতী হামলার শিকার হলো তাঁর পটল ও কাঁকরোলের ক্ষেত। বৃহস্পতিবার ভোরে মাঠে গিয়ে মাজেদবাবু দেখেন, বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অন্যান্য দিনের মতোই এদিন ভোরে নিজের চাষের জমিতে গিয়েছিলেন মাজেদ মল্লিক। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ। দেখা যায়, সারিবদ্ধ পটল গাছের গোড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বহু জায়গায় কাঁকরোল ও পটল গাছের শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছে। গত কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি আর হাজার হাজার টাকার বিনিয়োগ নিমেষের মধ্যে ধুলোয় মিশে গিয়েছে। আর্তনাদ করে মাঠে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত ওই চাষি।
মাজেদ মল্লিকের দাবি, এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত প্রায় আট বছর ধরে লোকসভা হোক বা বিধানসভা– নির্বাচন দোরগোড়ায় এলেই অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁর ফসলের ওপর হামলা চালায়। তিনি জানান, "প্রতিবার ভোটের সময় আমার ক্ষেত নষ্ট করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। কেন বারবার আমার ওপর এই প্রতিহিংসা, তা বুঝতে পারছি না।"
মাজেদ মল্লিক বাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রাক্তন সদস্য। ফলে এই ঘটনার পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা পুরোনো শত্রুতা কাজ করছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পতাকার নাম সামনে না এলেও, বিষয়টি যে পরিকল্পিত তা স্পষ্ট। অভিযুক্তদের হদিস পেতে আজও অন্ধকারে পুলিশ ও প্রশাসন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রতিবেশীরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামের কৃষকরা। মাজেদবাবু ইতিমধ্যেই বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পুলিশি তদন্তে আদৌ কোনো সুরাহা হবে কি না, নাকি আগামী নির্বাচনেও একই ঘটনার সাক্ষী থাকতে হবে তাঁকে, সেই দুশ্চিন্তাই এখন গ্রাস করেছে অসহায় চাষি পরিবারটিকে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন