সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং বিত্তশালী ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা। তবে এই বিশাল বৈভবের নেপথ্যে যে জাদুর কাঠিটি রয়েছে, তার নাম ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিসিসিআই-এর বার্ষিক আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসে স্রেফ এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ থেকে। ১৯ বছরে পদার্পণ করা আইপিএল কেবল জৌলুসেই নয়, বরং আয়ের নিরিখেও এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, বিসিসিআই-এর মোট বার্ষিক আয় ছিল ৯,৭৪১ কোটি টাকা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই আয়ের মধ্যে ৫,৭৬১ কোটি টাকাই এসেছে আইপিএল থেকে। অর্থাৎ, বোর্ডের মোট উপার্জনের প্রায় ৫৯ শতাংশই জোগান দিচ্ছে এই মেগা টুর্নামেন্ট। বর্তমানে আইপিএলের ব্যবসায়িক মূল্য প্রায় ১.৬ লক্ষ কোটি টাকা এবং এর ব্র্যান্ড ভ্যালু পৌঁছেছে ৩৩ হাজার কোটিতে। প্রতি বছর টুর্নামেন্টের এই আর্থিক মূল্য অন্তত ১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আইপিএলের এই আকাশছোঁয়া আয়ের নেপথ্যে প্রধানত তিনটি স্তম্ভ রয়েছে।
১. সম্প্রচার সত্ত্ব : এটিই আয়ের বৃহত্তম উৎস। ২০২৩-২৬ চক্রের জন্য টিভি (স্টার স্পোর্টস) এবং ওটিটি (ভায়াকম ১৮) মিলিয়ে বোর্ড ৪৮,৩৯০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কে সম্প্রচার সত্ত্ব বিক্রি করেছে। এই বিপুল অর্থের অর্ধেক বোর্ড নিজের কাছে রাখে এবং বাকিটা দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।
২. স্পনসরশিপ ও ব্র্যান্ডিং: আইপিএলের টাইটেল স্পনসরশিপ থেকেই প্রতি বছর বোর্ড পায় প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও টুর্নামেন্টের সাথে যুক্ত অন্যান্য অফিসিয়াল পার্টনার ও আম্পায়ার স্পনসরশিপ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ কোষাগারে জমা হয়।
৩. টিকিট ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি: বর্তমানে ১০টি দলের উপস্থিতিতে ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে টিকিট বিক্রির লভ্যাংশ। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বার্ষিক ফি এবং ক্রিকেটার কেনাবেচার ‘ট্রান্সফার ফি’ থেকেও বিসিসিআই মোটা টাকা লাভ করে।
আইপিএলকে অনেকে ‘টাকার খেলা’ বলে কটাক্ষ করলেও, ভারতীয় ক্রিকেটের মানোন্নয়নে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। হার্দিক পাণ্ডিয়া বা জশপ্রীত বুমরার মতো বিশ্বমানের প্রতিভারা এই মঞ্চ থেকেই উঠে এসেছেন। ছোট শহর ও মফস্বলের ক্রিকেটারদের বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি দেওয়ার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেট পরিকাঠামো ও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধিতে আইপিএলের অর্থই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
১৯ বছর আগে যে টুর্নামেন্টটি একটি পরীক্ষামূলক পরিকল্পনা হিসেবে শুরু হয়েছিল, আজ তা ভারতের অর্থনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বজুড়ে আইপিএলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের চাহিদা নিশ্চিত করছে যে, আগামী দিনেও বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের এই আর্থিক ও প্রশাসনিক আধিপত্য বজায় থাকবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইপিএল এখন কেবল একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নয়, বরং ভারতীয় ক্রিকেটকে শাসন করার এক শক্তিশালী অর্থনৈতিক ইঞ্জিন।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন