সমকালীন প্রতিবেদন : ঠাকুরনগরের ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলায় ধর্মীয় আবেগের মাঝেই দানা বেঁধেছিল জাল নোটের কারবার। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সজাগ দৃষ্টিতে শেষরক্ষা হলো না। সোমবার রাতে মেলা প্রাঙ্গণে জাল নোট দিয়ে কেনাকাটা করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল এক মধ্যবয়সী মহিলা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা মেলা চত্ত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করে গাইঘাটা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মেলার একটি দোকানে কেনাকাটা করার পর ওই মহিলা ব্যবসায়ীর হাতে একটি নোট তুলে দেন। নোটটি হাতে নিতেই কাগজের গুণমান দেখে সন্দেহ হয় ওই ব্যবসায়ীর। তিনি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি মেলা কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জানান। অভিযুক্তকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় গাইঘাটা থানায়। পুলিশ এসে তল্লাশি চালালে ওই মহিলার হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু ১০০ ও ২০০ টাকার জাল ভারতীয় নোট।
মেলায় দোকান দেওয়া জয়া মন্ডল নামে এক মহিলা দোকানদার জানান, জাল নোটের এই কারবার গত কয়েকদিন ধরেই মেলায় চলছিল। তিনি বলেন, "আগের দিন ওই মহিলাই আমার দোকান থেকে দুটো পাপড় কিনে একটি ২০০ টাকার জাল নোট দিয়ে চলে যায়। সেই সময় ভিড়ের চাপে আমি তখন বুঝতে পারিনি যে ওটা জাল নোট। পরে আমার ছেলে নোটটি দেখে জাল বলে শনাক্ত করে।"
মেলার স্বেচ্ছাসেবক ইনচার্জ প্রদীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে মেলায় একটি চক্র সক্রিয় থাকার খবর আসছিল। উদ্ধার হওয়া নোটের পরিমাণ এবং ধরন দেখে মনে করা হচ্ছে, এর পিছনে বড় কোনও অসাধু চক্র কাজ করছে। এব্যাপারে দোকানদারদেরও সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। গাইঘাটা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই মহিলার কাছে আর কারা আসত বা এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মেলার ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণা রুখতে মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
উৎসবের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার এই চেষ্টায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও, পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বড়সড় বিপত্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে মেলা কর্তৃপক্ষ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন