সমকালীন প্রতিবেদন : ২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মিশন ২০২৭। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। হাতে এখনও দেড় বছর সময় থাকলেও, নির্বাচকরা ইতিমধ্যেই ২০ জন ক্রিকেটারের একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করেছেন। আসন্ন আইপিএল-এ এই চিহ্নিত ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের ওপরই কড়া নজর রাখা হবে বলে বোর্ড সূত্রে খবর।
প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি এবার শুধুমাত্র টিভির পর্দায় নয়, সরাসরি মাঠে বসে ক্রিকেটারদের পরখ করে নেবেন। সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিসিসিআই নির্দেশ দিয়েছে যে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একজন নির্বাচক একটি ভেন্যুতে উপস্থিত থেকে ম্যাচ দেখবেন। এর ফলে পাঁচজন নির্বাচক সপ্তাহে পাঁচটি ভিন্ন ম্যাচ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। মুম্বইয়ের ম্যাচগুলোতে নজর রাখবেন অজিত আগরকর স্বয়ং। দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরপি সিং ও অজয় রাত্রাকে। বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদে প্রজ্ঞান ওঝা এবং কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সম্ভাব্যদের জহুরির চোখে পরখ করবেন শিবসুন্দর দাস।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থাকলেও, নির্বাচকরা আপাতত অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখছেন। টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও ওয়ানডে ফরম্যাটে এই দুই মহাতারকা দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আসন্ন আইপিএল তাঁদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা না হলেও, ছন্দে থাকাটা জরুরি।
বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বা অলিম্পিক্স এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। বরং কোচ গৌতম গম্ভীরের মূল লক্ষ্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা। পেস বিভাগে জশপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সিরাজ, অর্শদীপ সিং ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর পাশাপাশি অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার ফিটনেস ও ফর্মের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
আইপিএল শেষে আগামী ৬-১০ জুন মুল্লানপুরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট খেলবে ভারত। যদিও এটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবুও কোচ গম্ভীর কোনও আপস করতে নারাজ। বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, ‘টেস্ট ক্যাপ’ কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা নয়। তাই বুমরা ও সিরাজদের মতো প্রথম সারির বোলারদের এই ম্যাচে খেলানো হবে। মূলত অগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত ঠাসা টেস্ট সূচির আগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ প্র্যাকটিসে রাখাই বিসিসিআই-এর প্রধান কৌশল।
নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে অজিত আগরকরের চুক্তি আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাতে আগ্রহী তিনি। তবে বোর্ডের সংবিধান অনুযায়ী, একজন নির্বাচক চার বছর পর্যন্ত পদে থাকতে পারেন। ফলে আলাদা করে চুক্তি বৃদ্ধির প্রয়োজন না-ও হতে পারে। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে শীঘ্রই আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইপিএল-এর রঙিন মঞ্চ থেকেই ২০২৭ বিশ্বকাপের নীল নকশা চূড়ান্ত করতে চাইছে ভারত। এই ২০ জনের তালিকার বাইরেও যদি কেউ অসাধারণ পারফরম্যান্স করেন, তবে তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বোর্ড।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন