Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

বাগদায় এবার ‘ঠাকুরবাড়ি’ বনাম ‘ঠাকুরবাড়ি’: মধুপর্ণার বিপক্ষে প্রার্থী শান্তনু-পত্নী সোমা

 

Bagda-BJP-candidate

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজনীতির আঙিনায় ফের এক নাটকীয় মোড়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাগদা কেন্দ্রে এবার যুযুধান দুই পক্ষই ঠাকুরবাড়ির সদস্য। একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর, অন্যদিকে তাঁরই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিজেপির টিকিটে লড়বেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। সম্পর্কে তাঁরা ননদ-বউদি। ফলে মতুয়াগড় বাগদার দখল শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

মঙ্গলবার সকালে রাজ্যের ১৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। সেখানেই বাগদা কেন্দ্র থেকে সোমা ঠাকুরের নাম ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস আগেই এই আসনে আস্থা রেখেছে শান্তনু ঠাকুরের জ্যাঠতুতো বোন মধুপর্ণা ঠাকুরের ওপর। কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে গত উপ-নির্বাচনে বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন মধুপর্ণা। 

এবারও নাম ঘোষণার পর থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সক্রিয় রাজনীতিতে সরাসরি না থাকলেও সোমা ঠাকুর মতুয়াদের ‘মাতৃসেনা’-র প্রধান হিসেবে পরিচিত। গত লোকসভা নির্বাচনে স্বামীর হয়ে প্রচারের অভিজ্ঞতা থাকলেও, এবার নিজেই সরাসরি রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হলেন তিনি।

বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের জয়-পরাজয়ের প্রধান চাবিকাঠি মতুয়া ভোট ব্যাংক। এই কেন্দ্রের সাম্প্রতিক ইতিহাস রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে যে, ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হন বিজেপির বিশ্বজিৎ দাস। নির্বাচনের পর অবশ্য বিশ্বজিৎ দাস বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। 

বিশ্বজিৎ এরপর ইস্তফা দিয়ে লোকসভায় প্রার্থী হলে আসনটি খালি হয় এবং উপ-নির্বাচনে তৃণমূলের মধুপর্ণা ঠাকুর জয়ী হন। তৃণমূল তাঁদের জয়ী বিধায়কের ওপর ভরসা রাখলেও, বিজেপি পাল্টা কার্ড হিসেবে ঠাকুরবাড়ির বউমাকেই প্রার্থী করেছে।

সোমা ঠাকুরের নাম ঘোষণা হতেই খুশির হাওয়ার বদলে বিজেপির একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। নিচুতলার কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কোনো ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব সেই দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে আবারও ‘বহিরাগত’ বা নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যকে প্রার্থী করায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

এক বিক্ষুব্ধ নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, "আমরা বারবার আবেদন করেছিলাম যেন এলাকার কাউকে সুযোগ দেওয়া হয়। আমাদের আবেগকে মর্যাদা দেওয়া হয়নি।" ফেসবুক থেকে শুরু করে রাজপথ– বিজেপি কর্মীদের এই ক্ষোভ সোমা ঠাকুরের নির্বাচনী প্রচারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাগদার লড়াই এবার কেবল দুই দলের আদর্শের লড়াই নয়, বরং তা একই পরিবারের দুই সদস্যের সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে ঠাকুরবাড়ির সদস্য হিসেবে মধুপর্ণার জনপ্রিয়তা ও তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি, অন্যদিকে সোমা ঠাকুরের পারিবারিক পরিচিতি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন। তবে পদ্ম শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলে সোমা ঠাকুর কতখানি জমি শক্ত করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন