Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

২২০ রান তুলেও ওয়াংখেড়েতে নাইট-বধ: রিঙ্কুর নেতৃত্ব না কি বোলিং ব্যর্থতা

Bowling-Failure-of-KKR

সমকালীন প্রতিবেদন : আইপিএল-এর প্রথম ম্যাচেই লজ্জাজনক হারের স্বাদ তেতো করে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের শুরুটা। স্কোরবোর্ডে ২২০ রানের পাহাড় প্রমাণ পুঁজি নিয়েও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে আত্মসমর্পণ করল কেকেআর-এর বোলিং বিভাগ। তবে এই হারের নেপথ্যে শুধু খারাপ বোলিং নয়, কাটাছেঁড়া চলছে দলের সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংয়ের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কেকেআর-এর তথৈবচ রেকর্ড যেমন অব্যাহত থাকল, তেমনই দীর্ঘ ১৪ বছর পর প্রথম ম্যাচ জিতে খরা কাটাল রোহিত ব্রিগেড।

এদিন কেকেআর ফিল্ডিং করার সময় চতুর্থ ওভারের পরেই ঘটে বিপত্তি। হঠাৎই পা ধরে মাঠের মধ্যে শুয়ে পড়েন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়, দ্রুত মাঠে আসেন মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের কাঁধে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রাহানে। তাঁর অনুপস্থিতিতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বর্তায় ভাইস-ক্যাপ্টেন রিঙ্কু সিংয়ের কাঁধে। আর এখান থেকেই শুরু হয় নাইটদের রণকৌশলের বিভ্রাট।

চলতি মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই ওয়াংখেড়েই দেখেছিল ভারত ও ইংল্যান্ডের রানের বন্যা। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দু’দল মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ রান ওঠে এই ম্যাচে। রানপ্রসূ এই পিচে যখন মাথা ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন ছিল, তখনই খেই হারিয়ে ফেলেন রিঙ্কু। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার অভাব প্রকট হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্পিন জাদুকর সুনীল নারিনকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অদূরদর্শিতার পরিচয় দেন তিনি।

নারিনের বিরুদ্ধে রোহিত শর্মার দুর্বলতা সর্বজনবিদিত। তা সত্ত্বেও পাওয়ার-প্লে বা ইনিংসের শুরুতে নারিনকে আক্রমণে আনেননি রিঙ্কু। মাঝের ওভারে মাত্র দুই ওভার বোলিং করিয়ে তাঁকে সরিয়ে রাখা হয়। যখন ম্যাচ কার্যত কেকেআর-এর হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, তখন ১৯তম ওভারে নারিনকে ফেরানো হয়, যা কোনও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। 

অভিজ্ঞ স্পিনারের হাতে ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে বসিয়ে রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রিঙ্কুর নেতৃত্বের আরও একটি দুর্বল দিক ছিল ডেথ ওভারের বোলার নির্বাচন। বৈভব অরোরা দীর্ঘ দিন কেকেআর-এর সঙ্গে থাকলেও স্লগ ওভারে রান আটকানোয় তিনি বিশেষ দক্ষ নন। তা জানা সত্ত্বেও ইনিংসের অন্তিম লগ্নে তাঁর ওপর ভরসা দেখান রিঙ্কু। 

ফলস্বরূপ মুম্বইয়ের ব্যাটাররা অনায়াসেই রান তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যান। নারিনের হাতে ওভার থাকা সত্ত্বেও কার্তিক ত্যাগী, বৈভব অরোরা বা অনুকূল রায়দের দিয়ে টানা বোলিং করিয়ে যাওয়া নাইটদের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়। চাপের মুখে রিঙ্কু সিং দৃশ্যত দিশেহারা ছিলেন, যার খেসারত দিতে হলো দলকে।

২০১২ সালের পর থেকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কখনও আইপিএল-এর প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি। দীর্ঘ ১৪ বছরের সেই অপবাদ এদিন ঘুচিয়ে দিল রোহিতরা। অন্যদিকে, ওয়াংখেড়েতে কেকেআর-এর দুঃস্বপ্ন জারি রইল। এই মাঠে খেলা ১৩টি ম্যাচের মধ্যে ১১টিতেই হারতে হলো কলকাতাকে। ২২০ রান তুলেও এই হার কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে নিশ্চিতভাবেই বোলিং আক্রমণ এবং বিকল্প নেতৃত্বের ভাবনা নিয়ে ফের পরিকল্পনা করতে বাধ্য করবে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন