Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

ক্যান্সারের পর এবার অটোইমিউন রোগ নির্মূলে নয়া দিগন্ত: কার-টি সেল থেরাপির ম্যাজিক

 

CAR-T-Cell-Therapy

সমকালীন প্রতিবেদন : অটোইমিউন ডিজিজের চিকিৎসায় কার-টি সেল থেরাপির আগমন কেবল এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, বরং হাজার হাজার ভুক্তভোগী রোগীর যন্ত্রণামুক্ত ভবিষ্যতের এক নিশ্চিত অঙ্গীকার। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং এই আধুনিক থেরাপির মেলবন্ধনে আগামী দিনে অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় এক ঐতিহাসিক জয় আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ 

সম্প্রতি বিশ্ব লুপাস দিবস উপলক্ষে ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি অ্যান্ড রিউম্যাটোলজি’-এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক আলোচনাসভায় উঠে এলো এই সমস্যার এক যুগান্তকারী সমাধানের কথা। বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, ১৫০ থেকে ২০০টি ভিন্ন ভিন্ন রোগের এই জটিল সমন্বয়কে পরাস্ত করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ‘কার-টি সেল থেরাপি’।

অটোইমিউন ডিসঅর্ডারের মূল উৎস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট রিউম্যাটোলজিস্ট ডাঃ কৌশিক বসু জানান, সহজ ভাষায় এটি হলো শরীরের শ্বেতকণিকার নিজস্ব কিছু অংশের বিরুদ্ধে অন্য অংশের এক প্রকার ‘বিদ্রোহ’। এতদিন পর্যন্ত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কৃত্রিমভাবে কিছুটা স্তিমিত রেখে এই অসুখকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হতো। এই রোগটি সুগার বা থাইরয়েডের মতো একক কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে চটজলদি ধরা সম্ভব নয় বলে জানান ডাঃ রেশমি রুংটা। যেহেতু অটোইমিউন ডিজিজ শরীরের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করে, তাই রোগীর সামগ্রিক উপসর্গ বিশ্লেষণ করেই পরীক্ষার রূপরেখা তৈরি করতে হয়।

তবে এই চিরাচরিত ধারার বাইরে এসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সুফলের বার্তা দিচ্ছে কার-টি সেল থেরাপি। ক্যান্সার চিকিৎসায় ইতিমধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহৃত এই উন্নত থেরাপি এবার সব ধরনের অটোইমিউন ডিজিজের চিকিৎসাতেও নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে। খুব শীঘ্রই ভারতের বাজারে এবং স্থানীয় স্তরে এই চিকিৎসা পদ্ধতি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশাবাদী চিকিৎসকমহল। এটি মূলত রোগীর নিজস্ব প্রতিরোধ কোষকে ল্যাবরেটরিতে পুনর্গঠিত করে পুনরায় শরীরে প্রবেশ করানোর এক অত্যাধুনিক প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগটিকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে সাহায্য করবে।

এই প্রসঙ্গে ডাঃ অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায় যোগ করেন, এই রোগের লক্ষণগুলো পরিবর্তনশীল। আজ যে উপসর্গ নেই, কাল তা নতুন করে দেখা দিতে পারে। তাই এর কোনো নির্দিষ্ট বা ধরাবাঁধা ওষুধ হয় না। প্রাথমিকভাবে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হলেও, পরবর্তীতে রোগের তীব্রতা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ ‘রোগী-ভিত্তিক’ চিকিৎসা ও ওষুধ নির্বাচন করা হয়। বিশেষ করে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা কেন এই রোগে বেশি আক্রান্ত হন, সেই দিকটিও চিকিৎসকদের আলোচনায় উঠে আসে।

যেকোনো জটিল রোগের ওষুধেরই কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। অটোইমিউন রোগের ওষুধের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। ডাঃ প্রদ্যোৎসিনহা মহাপাত্রের মতে, ওষুধ শুরুর আগে এবং ওষুধ চলাকালীন নিয়মিত কিছু পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় রোগীকে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগীর কতটা ক্ষতি করছে আর ওষুধটি রোগ নিরাময়ে কতটা সাহায্য করছে– এই দুয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য।

অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম এমনিতেই দুর্বল থাকে। ফলে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো বিভিন্ন বাহ্যিক সংক্রমণের আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং অনেক সময় তা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই কারণে ডাঃ পার্থজিৎ দাস অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে জানিয়েছেন যে, এই ধরনের মারাত্মক সংক্রমণ প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধকগুলি সময়মতো নিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন