সমকালীন প্রতিবেদন : পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন-এর টানাপোড়েনের আবহে কড়া হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ সংক্রান্ত দাবি-আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত জেলা বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের নিয়ে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলি-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব প্রকট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দোষারোপের প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে এবং বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
আদালত জানায়, ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ তালিকায় থাকা বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তাদের দাবি নিষ্পত্তি আটকে রয়েছে। এই প্রক্রিয়া একটি আধা-বিচারিক কার্যক্রম, যা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে শেষ করা জরুরি। সেই কারণেই কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হয়েছে প্রতিটি জেলায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের একটি দল গঠন করতে। নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসন তাঁদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে কমিশন জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশ দ্রুত শেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে সম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত না হলে পরে সম্পূরক তালিকা প্রকাশের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের আপত্তি আমলে নেয়নি শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করার দিকেও কমিশনকে সতর্ক করেছে বেঞ্চ।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে উত্তেজনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে বিশেষ পর্যবেক্ষকের গাড়িতে হামলার অভিযোগসহ একাধিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের মহাপরিদর্শক (পুলিশ)-কে কড়া ভর্ৎসনা করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সতর্ক করে জানিয়েছেন, আইন মেনে ব্যবস্থা না নিলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশনকে প্রয়োজনীয় আধিকারিক দিতে। কমিশনের অভিযোগ ছিল, পর্যাপ্ত যোগ্য গ্রুপ-এ আধিকারিক দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “অযোগ্য আধিকারিকরা কীভাবে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন?” এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী আদালতের দ্বারস্থ হন।
মমতা ব্যানার্জীর অভিযোগ, ভোটের আগে বাংলাকেই লক্ষ্য করে ভোটার বাদ দেওয়ার তৎপরতা চলছে। যদিও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ থাকলেও বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে, রাজ্য-নির্বাচন কমিশন সংঘাতের আবহে শীর্ষ আদালত বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধান জোরদার করে প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার বার্তা দিল। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মার্চে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন