সমকালীন প্রতিবেদন : শীতের আমেজ পুরোপুরি বিদায় না নিলেও রাজ্যে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা স্পষ্ট। ভোর ও রাতের দিকে এখনও হালকা শিরশিরে ভাব টের পাওয়া যাচ্ছে জেলাগুলিতে। তবে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি অনেকটাই ফিকে। এর মধ্যেই আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানাল আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ওড়িশা-সংলগ্ন উপকূলবর্তী জেলা, যেমন পূর্ব মেদিনীপুরে দু’একটি জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার ও মঙ্গলবার উপকূলের জেলাগুলিতে আংশিক মেঘলা আকাশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের একটি নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি হারালেও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন ভারত মহাসাগর এলাকায় নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে। সেটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমমুখী হয়ে পূর্ব ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারে। এর প্রভাবেই জলীয় বাষ্প ঢুকে উপকূলবর্তী বাংলা ও ওড়িশায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
তাপমাত্রার পারদও ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী। শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০-২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে তা ১৯-২১ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে। আগামী দুই থেকে তিন দিনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গড়ে ২-৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত। সপ্তাহের শেষ দিকে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে কলকাতায় দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি এবং রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কম। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৩০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ সর্বাধিক ৭৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশ নথিভুক্ত হয়েছে। আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলেও সকালের দিকে হালকা কুয়াশা বা শিশিরের সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। দার্জিলিং ও পার্বত্য এলাকায় আগামী কয়েকদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। কালিম্পং সংলগ্ন অঞ্চলে তা ১১ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। শিলিগুড়ি, মালদহ ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে তাপমাত্রা থাকবে ১৬ থেকে ১৯ ডিগ্রির মধ্যে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে সকালের দিকে কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি, যদিও দক্ষিণবঙ্গে ঘন কুয়াশার বিশেষ পূর্বাভাস নেই।
সব মিলিয়ে, শীত বিদায়ের পথে। সকালে ও রাতে হালকা ঠান্ডা থাকলেও দিনের বেলায় উষ্ণতার প্রভাব বাড়ছে। নিম্নচাপের জেরে আগামী সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, বড়সড় আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত আপাতত নেই বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন