সমকালীন প্রতিবেদন : সামান্য গোড়ালি ভাঙার চিকিৎসা করাতে গিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল বনগাঁয়। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও দিয়েছিল বলে অভিযোগ মৃতার স্বজনদের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁর ঠাকুরপল্লির বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী সুচিত্রা বিশ্বাস (৬৬) গত ১২ ফেব্রুয়ারি পায়ের গোড়ালি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় অনুত্তমা হেল্থকেয়ার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। অভিযোগ, ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক ডা. অম্লান দে। অস্ত্রোপচারের পর রাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দেখে বাড়ি ফিরে যান।
মৃতার পরিবারের দাবি, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ারে হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা রোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে বাধা দেওয়া হয়। পরে মৃতার কন্যা জোর করে ওয়ার্ডে ঢুকে দেখেন, নির্দিষ্ট বেডে রোগী নেই। বিষয়টি জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানায়, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সুচিত্রা বিশ্বাসকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে অবস্থার অবনতির বিষয়ে পরিবারকে আগে থেকে কোনও খবর দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ।
এর কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতাল থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বক্তব্যে অসংগতি ছিল বলে দাবি পরিবারের। বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আলাদা করে ডেকে নিয়ে দেড় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং বিষয়টি নিয়ে কোথাও অভিযোগ না করার অনুরোধ জানানো হয়।
মৃতার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, যেদিন সুচিত্রা বিশ্বাস পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান, সেদিন প্রথমে বনগাঁ হাসপাতালের আউটডোরে ডা. অম্লান দে কে দেখানো হয়। এক্সরে করার পর তিনি জানান, গোড়ালির হাড় ভেঙে গেছে এবং একাধিক লিগামেন্ট ছিড়ে গেছে। অস্ত্রপচার করতে হবে। সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে ওই চিকিৎসকের ব্যক্তিগত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য বার বার বলা হয় বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ওই চিকিৎসকের উপর ভরসা করে তাঁর পছন্দের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে অপারেশন করানো হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসায় গাফিলতির ফলে তাঁদের সুস্থ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে চিকিৎসক ডা. অম্লান দে এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, 'ওই রোগী আগে থেকেই সুগারে আক্রান্ত। তবুও সমস্তরকম পরীক্ষা পরিয়ে অস্ত্রপচার করা হয়। আর তা সফলও হয়। কিন্তু অস্ত্রপচারের কয়েক ঘন্টা করে আচমকাই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কোনও টাকাপয়সায় রফা করার কথা হয়নি।'
উল্লেখ্য, এর আগেও এই বেসরকারি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পাশাপাশি, একাধিক রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে সরকারি হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসক যে সব রোগীদের অস্ত্রপচারের প্রয়োজন, এমন কিছু রোগীদের সরকারি হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত করিয়ে তাঁদের নিজেদের পরিচিত হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে অস্ত্রপচার করানোর জন্য একপ্রকার বাধ্য করেন। জনস্বার্থে এব্যাপারে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরদারি চালানোর জন্য অনুরোধ করেছেন রোগীর আত্মীয়রা।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন