সমকালীন প্রতিবেদন : পৌষের মাঝামাঝিতেই সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা দক্ষিণবঙ্গে। কয়েক দিনের হাড়কাঁপানো শীতের পর কিছুটা স্বস্তি পেলেন দক্ষিণবঙ্গবাসী। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উঠে এসেছে ১৩ ডিগ্রির ঘরে। তবে আবহাওয়ার এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নয় বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ইংরেজি বছরের প্রথম দিনেই জাঁকিয়ে শীতের কামড়। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যায় ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৬ ডিগ্রি কম। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গত ১৮ বছরে ১ জানুয়ারি এতটা পারদপতন দেখা যায়নি শহরে। এর আগে ২০০৮ সালে বছরের প্রথম দিনে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রায় দু’দশক পর ফের এমন তীব্র শীতের সাক্ষী থাকল মহানগর।
হাওয়া অফিসের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবেই এই আবহাওয়ার পরিবর্তন। শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। কলকাতা ও শহরতলিতে রাতের তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পারদ ঘোরাফেরা করবে ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রির আশেপাশে। তবে এই উষ্ণতা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি ফের ২ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে।
এদিকে, ওড়িশা উপকূলে তৈরি হওয়া বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রাজ্যে ঢুকছে জলীয় বাষ্প। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় কুয়াশার দাপট বাড়বে। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ-সহ একাধিক জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দৃশ্যমানতা নেমে আসতে পারে ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত।
বুধবার মরসুমের শীতলতম দিন কাটিয়েছে কলকাতা। ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা সামান্য বেড়ে ১১.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে। তার পরের চার দিনে তাপমাত্রায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত আগামী সাত দিন শীতের কনকনানি থেকে কিছুটা রেহাই মিলতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার খামখেয়ালি রূপ। শুক্রবার ও শনিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিংয়ের উঁচু পার্বত্য এলাকাগুলিতে তুষারপাত হতে পারে। সান্দাকফু, ঘুম, ধোত্রে, মানেভঞ্জন এবং চটকপুরের মতো এলাকায় সাদা চাদরে ঢেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে তাপমাত্রা থাকবে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। অন্যদিকে, মালদহ ও সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের সমতল জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা থাকতে পারে ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রির ঘরে।
আগামী কয়েক দিনে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন না হলেও সকালের দিকে কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ে হালকা বৃষ্টি এবং পাহাড়ে তুষারপাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সব মিলিয়ে, শীতের স্বস্তি ও শীতের কামড়—দু’য়েরই দোলাচলে নতুন বছরের শুরুতে রাজ্যের আবহাওয়া।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন