সমকালীন প্রতিবেদন : সোমবার পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের শীর্ষ পদে বড় রদবদল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ আগরওয়ালকে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি এতদিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে (১৯৯৩ ব্যাচ) অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদায় দিল্লির পশ্চিমবঙ্গ ভবনের প্রধান রেসিডেন্ট কমিশনার পদে বদলি করা হয়েছে।
নবান্নের প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মিবর্গ দফতর সোমবার সন্ধ্যায় এই নিয়োগ ও বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এদিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে মনোজ আগরওয়ালকে তাঁর ঠিক বাম পাশে বসতে দেখা যায়, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিকেলের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসে যায়।
মনোজ আগরওয়াল সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যেও রক্তপাতহীন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করায় তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার কারণেই নতুন সরকার তাঁকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে শনিবার অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র আইএএস আধিকারিক সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। নির্বাচন পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্য। সুব্রত গুপ্ত ও মনোজ আগরওয়ালের মতো অভিজ্ঞ ও পোড়খাওয়া আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরিয়ে আনা নতুন সরকারের প্রশাসনিক কোর টিম গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালা এতদিন মুখ্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁকে দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং রাজ্যের বিভিন্ন বকেয়া আদায়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে গতি আনার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদায় এই দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
বিজেপি সরকারের প্রথম কর্মদিবস সোমবারই প্রশাসনিক স্তরে উল্লেখযোগ্য রদবদল শুরু হয়েছে। শনিবার থেকেই একের পর এক আমলা নিয়োগ ও পদায়নের প্রক্রিয়া চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার নবান্নে একাধিক বৈঠক করেন। প্রথম বৈঠকে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন তিনি।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী এমন কর্মকর্তাদের ওপরই ভরসা রাখতে চান যাঁদের দক্ষতা, সততা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মনোজ আগরওয়াল ও সুব্রত গুপ্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে। এই রদবদলকে নতুন সরকারের ‘নতুন বাংলা গড়ার’ কর্মযজ্ঞের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রশাসনিক মহলে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন