সমকালীন প্রতিবেদন : দীর্ঘ ১৫ বছর পর কলকাতা মেট্রোয় আবার ফিরছে রিটার্ন টিকিটের সুবিধা। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ও সময় বাঁচাতে পরীক্ষামূলকভাবে কিউআর কোড দেওয়া কাগজের টিকিটে ‘রিটার্ন’ অপশন চালু করল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। শনিবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ব্লু, ইয়েলো, গ্রিন ও অরেঞ্জ– কলকাতা মেট্রোর সব শাখাতেই আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় একবার টিকিট কাটলেই যাত্রীরা সারাদিনের মধ্যে যাতায়াত করতে পারবেন। ফেরার সময় আর আলাদা করে টিকিট কাউন্টারে দাঁড়াতে হবে না। কিউআর কোড স্ক্যান করেই গেট দিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থান করা যাবে। ফলে ব্যস্ত সময়ে কাউন্টারে ভিড় যেমন কমবে, তেমনই যাত্রীদের সময়ও বাঁচবে বলে মনে করছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
একসময় কাগজের স্ট্রিপ টিকিট চালু থাকাকালীন কলকাতা মেট্রোয় রিটার্ন টিকিটের সুবিধা ছিল। কিন্তু ২০১১ সালের ৩০ জুলাই স্ট্রিপ টিকিট বাতিল হয়ে ১ অগস্ট থেকে টোকেন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় রিটার্ন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কিউআর কোড টিকিট এলেও তাতে রিটার্নের সুবিধা ছিল না। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কিউআর কোড ভিত্তিক কাগজের টিকিট চালু হওয়ার পরই ফের রিটার্ন টিকিট চালুর ভাবনা শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মীসঙ্কট ও নগদ লেনদেনের সমস্যার কারণে টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। বিশেষ করে যাঁরা স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করেন না, তাঁদের বারবার কাউন্টারে যেতে হতো। রিটার্ন টিকিট চালু হওয়ায় একবারেই যাতায়াতের টিকিট কাটা সম্ভব হবে, ফলে খুচরো ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত সমস্যাও অনেকটাই কমবে।
মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এসএস কন্নান জানিয়েছেন, “পরীক্ষামূলকভাবে রিটার্ন টিকিট চালু করা হয়েছে। যাত্রীরা টিকিট স্ক্যান করেই যাতায়াত ও প্রত্যাবর্তন করতে পারবেন। ফেরার সময় আর বুকিং কাউন্টারে যেতে হবে না।” কর্তৃপক্ষের মতে, এই পরিষেবার চাহিদা থাকলে ভবিষ্যতে তা স্থায়ী করা হতে পারে।
মেট্রোর এই ঘোষণায় খুশি নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের মতে, দ্রুতগতির এই পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্য করে তুলতেই রিটার্ন টিকিটের প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন