Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

নিপা আতঙ্কে স্বস্তি, কলকাতা সংলগ্ন এলাকার বাদুড়ে মিলল না সক্রিয় ভাইরাস

 

Relief-amid-Nipah-fears

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌বাংলায় নিপা ভাইরাস ঘিরে উদ্বেগের মাঝেই মিলল স্বস্তির খবর। বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরা বাদুড়ের শরীরে সক্রিয় নিপা ভাইরাসের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রাজ্যের বন বিভাগ ও পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি-এর যৌথ সমীক্ষায় ধরা পড়া মোট ন’টি বাদুড়ের আরটিপিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। ফলে আপাতত রাজ্যে বাদুড় থেকে নিপা ছড়ানোর আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গে দুই নার্সের শরীরে নিপা সংক্রমণের পর সম্ভাব্য উৎস খুঁজতেই এই সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের কলকাতা–বসিরহাট রোড সংলগ্ন কুবেরপুর এলাকা থেকে ওই ন’টি বাদুড় সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি বাদুড়ের শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব নিয়ে আরটিপিসিআর পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, সব ক’টির রিপোর্টই নিপা ভাইরাসের ক্ষেত্রে নেগেটিভ। তবে একটি বাদুড়ের রক্তে নিপা ভাইরাসের অ্যান্টিবডির উপস্থিতি মিলেছে।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অ্যান্টিবডি থাকার অর্থ ওই বাদুড়টি অতীতে নিপা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে তার শরীরে সক্রিয় ভাইরাস নেই এবং সে সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম নয়। ফলে এই মুহূর্তে বাদুড় থেকে সংক্রমণের কোনও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই বলেই মত গবেষকদের। যদিও সংক্রমণের প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করতে সমীক্ষা এখনও চালু থাকবে।

এ দিকে, বারাসতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণ নার্সের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর আরটিপিসিআর রিপোর্ট আরও একবার নেগেটিভ এলেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে আপাতত তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আক্রান্ত দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা কল্যাণী এইমস ও বেলেঘাটার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে পাওয়া সব রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে।

পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কোনওরকম ঢিলেমি দিতে নারাজ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সোমবার ‘ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজ্য প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ভাইরোলজিস্ট সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানান, এই নিপা পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ অতিমারী প্রতিরোধের প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ ‘অ্যাসিড টেস্ট’। তাঁর কথায়, কোভিড-পরবর্তী সময়ে অতিমারী মোকাবিলার জন্য জাতীয় স্তরে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে এবং নাগপুরে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়ান হেলথ’ গড়ে তোলা হয়েছে।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও ‘ওয়ান হেলথ কমিটি’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই কমিটি নিপা আক্রান্তদের চিকিৎসা, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে সুপারিশ করবে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. অনিতা নন্দী ও স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের চিকিৎসক সমরেন্দ্রনাথ হালদার এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সব মিলিয়ে বাদুড়ের রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়া এবং আক্রান্ত নার্সের ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠায় রাজ্যে নিপা নিয়ে আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে। তবে পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখে সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে স্বাস্থ্য দফতর ও বিশেষজ্ঞ মহল।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন