সমকালীন প্রতিবেদন : আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নিতিন নবীন। জে পি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৪৫ বছর বয়সি এই বিহার নেতা দলের ১২তম জাতীয় সভাপতি হলেন। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁর হাতেই দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্ব তুলে দিল বিজেপি। বয়সের নিরিখে তিনিই দলের ইতিহাসে সর্বভারতীয় স্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি।
মঙ্গলবার দলের কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে নিতিন নবীনের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, নিতিন নবীন একজন ‘মিলেনিয়াল’ নেতা, যিনি দলের উত্তরাধিকার বহন করে বিজেপিকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মোদীর কথায়, দলই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দলের প্রশ্নে নিতিন নবীনই বস, আমি নিজে একজন সাধারণ দলীয় কর্মী মাত্র।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং সংগঠনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দায়বদ্ধতার বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদায়ী বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতা। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিতিন নবীনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদী বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপির সভাপতি হওয়ার জন্য নিতিন নবীনকে অভিনন্দন। দলকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আমি সমস্ত প্রাক্তন সভাপতিদের ধন্যবাদ জানাই।”
বিহার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এ নিতিন নবীনকে বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি করা হয়েছিল। সোমবারই দলের জাতীয় রিটার্নিং অফিসার ড. কে লক্ষ্মণ জানিয়ে দেন, জাতীয় সভাপতি পদের জন্য একমাত্র মনোনীত প্রার্থী নিতিন নবীনই। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর নির্বাচিত হওয়া কার্যত নিশ্চিত হয়। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাই নিতিন নবীনের রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি। প্রয়াত নবীন কিশোর সিনহার পুত্র নিতিন ছাত্র রাজনীতিতে এবিভিপির মাধ্যমে পথচলা শুরু করেন। সংগঠনের কাজ করতে করতেই রাজ্য রাজনীতিতে নিজের জায়গা শক্ত করেন। ২০১০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পটনার বাঁকিপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। এরপর টানা পাঁচবার ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বর্তমানে বিহারের পিডব্লিউডি মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।
সংগঠনের কাজ, মাঠের রাজনীতি ও কৌশলী নেতৃত্বের সমন্বয়ে বিজেপির ভবিষ্যৎ মুখ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছিল নিতিন নবীনের নাম। এবার সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে গোটা দেশের সংগঠন পরিচালনার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে। দলের অন্দরমহলের মতে, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করার পথে নিতিন নবীনের ভূমিকা হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন