সমকালীন প্রতিবেদন : মুখে বয়কটের হুঁশিয়ারি, একদিকে কূটনৈতিক চাপ– আর তারই মাঝখানে আচমকা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা। আসন্ন টি–২০ বিশ্বকাপকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বয়কট-সংক্রান্ত মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড প্রকাশ করেছে পাকিস্তান, যা তাদের আগের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অস্বীকার করায় আইসিসি তাদের টি–২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। একাধিক স্বাধীন নিরাপত্তা সমীক্ষায় ভারতের ক্ষেত্রে কোনও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কথা না উঠলেও বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সিদ্ধান্তের পরই প্রকাশ্যে আইসিসির সমালোচনা করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তিনি জানান, পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ পুরোপুরি সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। এমনকি বাংলাদেশকে বাদ দেওয়াকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে বয়কটের হুঁশিয়ারিও দেন। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল– পাক সরকার চাইলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে খেলবে না।
কিন্তু এই ‘বয়কট নাটক’ যে দীর্ঘস্থায়ী নয়, তা পরিষ্কার হয়ে যায় দল ঘোষণার মাধ্যমে। ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে অধিনায়ক করা হয়েছে সলমন আলি আঘাকে। দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ বাবর আজম, রয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, ফখর জামানের মতো তারকারা। তবে জায়গা হয়নি মহম্মদ রিজওয়ান ও হ্যারিস রউফের মতো সিনিয়রদের।
দীর্ঘদিন ধরেই টি–২০ পরিকল্পনার বাইরে থাকা রিজওয়ানের বাদ পড়া প্রত্যাশিত হলেও, রউফের অনুপস্থিতি এশিয়া কাপে ব্যর্থতার ফল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দল ঘোষণার পরেই আরও একবার অনিশ্চয়তার সুর শোনা যায় পাক শিবিরে। পাকিস্তানের কোচ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন– সরকারি অনুমোদন না এলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখনও চূড়ান্ত নয়। অর্থাৎ মাঠের প্রস্তুতি শুরু হলেও কূটনৈতিক টানাপোড়েন পুরোপুরি মেটেনি।
আইসিসি অবশ্য পিসিবির এই অবস্থান ভালোভাবে নিচ্ছে না বলেই সূত্রের খবর। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে– বয়কটের পথে হাঁটলে পাকিস্তানকে কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। নকভির সরাসরি চ্যালেঞ্জের ভঙ্গি আইসিসির অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, বয়কটের হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল ঘোষণা করে পাকিস্তান কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছে– কথার লড়াই চললেও মাঠের প্রস্তুতি থামছে না। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন