Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মনোজ পন্থ

 

New-Chief-Secretary

সমকালীন প্রতিবেদন : বছরের শেষ দিনে নবান্নে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রদবদলের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক নন্দিনী চক্রবর্তী। একই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এই নিয়োগের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। তিনিই রাজ্যের প্রথম মহিলা বাঙালি মুখ্যসচিব। এর আগে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর আবার কোনও বাঙালি আধিকারিক এই সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসলেন। নন্দিনী এতদিন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র, পাহাড় ও পর্যটন দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তাঁর স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০০৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার জগদীশ প্রসাদ মিনাকে। তিনি ১ জানুয়ারি থেকেই রাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে কাজ শুরু করবেন।

৩১ ডিসেম্বর ছিল বিদায়ী মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের মেয়াদের শেষ দিন। গত ৩০ জুন তাঁর মেয়াদ শেষ হলেও নবান্নের আবেদনে কেন্দ্রীয় সরকার ছ’মাসের জন্য তা বাড়িয়েছিল। সেই বর্ধিত মেয়াদও বুধবার শেষ হয়েছে। সূত্রের খবর, এবারও মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল, তবে তা মঞ্জুর হয়নি। সেই কারণেই নতুন বছরের আগেই নতুন মুখ্যসচিব নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়ে।

নন্দিনী চক্রবর্তীর অবসর ২০২৯ সালের জুন মাসে। অর্থাৎ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনিই রাজ্যের মুখ্যসচিব থাকবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রের ধারণা। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের প্রশাসনিক হাল ধরার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, নন্দিনীর প্রশাসনিক কেরিয়ারে নানা ওঠাপড়া রয়েছে। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ‘আস্থাভাজন’ হিসেবে পরিচিত হন। পরে কিছুদিন তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কাজ করলেও, ২০২২ সালে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে রাজ্যপালের প্রধান সচিব করা হয়। 

যদিও পরে রাজ্যপালের আপত্তিতে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর পর্যটন, পাহাড় এবং শেষপর্যন্ত ২০২৩ সালের শেষে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে তাঁর নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সেই নিয়োগকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ বলে দাবি করেছিলেন। যদিও প্রশাসনিক মহলের মতে, এটি মূলত রীতি ও রেওয়াজের প্রশ্ন।

অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে একেবারে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই পদে রয়েছেন গৌতম সান্যাল, যিনি অসুস্থতার কারণে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারছেন না। প্রশাসনের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে গৌতম সান্যাল অবসর নিলে সেই পদে মনোজ পন্থের পথও কার্যত প্রস্তুত করে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নতুন মুখ্যসচিবের নিয়োগের দিনই আইএএস মহলে আরও কিছু দায়িত্ব বণ্টন ও রদবদল হয়েছে। অত্রি ভট্টাচার্য, সুরেন্দ্র গুপ্তা, দুশমন্ত নারিয়ালা, বরুণ কুমার রায়ের মতো আধিকারিকদের দায়িত্বেও পরিবর্তন এসেছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রেখেই আস্থাভাজন আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়– এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকেরা।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন