Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

কোভিড ভ্যাকসিনে তরুণদের আকস্মিক মৃত্যুর দাবি খারিজ, এক বছরের গবেষণায় স্পষ্ট বার্তা এইমসের

 

Covid-vaccine

সমকালীন প্রতিবেদন : কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণের পর তরুণদের আকস্মিক মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে চলা বিতর্কে ফের স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এইমস, নয়া দিল্লি। এক বছরের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণার ভিত্তিতে এইমস জানিয়েছে, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের হঠাৎ মৃত্যুর সঙ্গে টিকার কোনও বিজ্ঞানসম্মত বা পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক নেই।

সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে, যা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক জার্নাল। গবেষণায় এক বছরের মধ্যে তরুণদের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাগুলি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়‌– পরিজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভার্বাল অটোপসি, পোস্ট-মর্টেম ইমেজিং, প্রচলিত ময়নাতদন্ত এবং বিস্তারিত হিস্টোপ্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

সমীক্ষার মূল ফলাফল অনুযায়ী, কোভিড টিকা নেওয়া ও না নেওয়ার সঙ্গে তরুণদের আকস্মিক মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, টিকাকরণকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই স্পষ্ট করেছে এইমস।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, অধিকাংশ আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে ছিল আগে থেকেই থাকা বা অজানা কিছু শারীরিক সমস্যা। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগজনিত কারণই ছিল সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসযন্ত্রের অসুখ ও অন্যান্য নন-কার্ডিয়াক কারণও চিহ্নিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তরুণ ও তুলনামূলক বেশি বয়সিদের মধ্যে কোভিড সংক্রমণের ইতিহাস এবং টিকাকরণের হার প্রায় সমান হলেও, মৃত্যুর সঙ্গে টিকার কোনও সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পর্ক মেলেনি।

এইমস নয়া দিল্লির অধ্যাপক ডা. সুধীর আরাভা জানান, এই গবেষণা এমন এক সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যখন সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যমে কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে ভ্রান্ত ও অযাচাই তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই গবেষণার ফলাফল ভ্যাকসিনের সঙ্গে আকস্মিক মৃত্যুর যোগ থাকার দাবি সমর্থন করে না। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে প্রমাণভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের উপর আস্থা রাখাই একান্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের আকস্মিক মৃত্যু নিঃসন্দেহে দুঃখজনক হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর পেছনে থাকে অজানা বা সময়মতো ধরা না-পড়া শারীরিক সমস্যা, বিশেষ করে হার্ট সংক্রান্ত অসুখ। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো চিকিৎসার উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

ডা. আরাভার বক্তব্য, বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর ভরসা রাখা এবং ভুয়ো তথ্য থেকে দূরে থাকাই সমাজের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়, যাতে ভ্যাকসিনের মতো প্রমাণিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা অটুট থাকে।‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন